নতুন সরকারের ১৮০ দিনের চ্যালেঞ্জ: ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনরুদ্ধার ও আস্থা ফেরানোর লড়াই

ঢাকা, ২২ ফেব্রুয়ারি – তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকার এক অত্যন্ত জটিল ও চ্যালেঞ্জিং অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে যাত্রা শুরু করেছে। উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া ভঙ্গুর অর্থনীতি, রুগ্ণ বেসরকারি খাত এবং প্রায় ২৩ লাখ কোটি টাকার বিশাল ঋণের বোঝা বর্তমান প্রশাসনের সামনে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সীমিত সম্পদ ও জনগণের বিপুল প্রত্যাশার মধ্যে সরকারের এই পথচলা মসৃণ করতে প্রথম ১৮০ দিনের কর্মসূচিকে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের ভিত্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সরকার গঠনের পরপরই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্পষ্ট করেছেন যে, জনগণের প্রত্যাশা পূরণে আগামী ছয় মাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফোকাস থাকবে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, জনকল্যাণ এবং সংস্কারের ওপর। বিশেষ করে রমজান মাসে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন জানিয়েছেন, জরুরি সমস্যাগুলো সহনীয় পর্যায়ে আনতে কমপক্ষে এই সময়টুকু প্রয়োজন।
অর্থনীতিবিদ ও বিশ্লেষকরা বলছেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নতুন সরকারের প্রথম ছয় মাসের অগ্রাধিকার তালিকায় সাধারণত মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি থাকে। উদাহরণস্বরূপ, যুক্তরাজ্যের ঋষি সুনাক সরকার বা ইন্দোনেশিয়ার প্রাবোও সুবিয়ান্তোর সরকারের শুরুর দিকের পদক্ষেপগুলো ছিল জনকল্যাণমুখী সংস্কার ও স্থিতিশীলতা কেন্দ্রিক। বাংলাদেশেও বর্তমান প্রেক্ষাপটে গণতান্ত্রিক সংস্কার, বন্ধ শিল্প পুনরুদ্ধার এবং আইসিটি খাতে কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে।
তবে চ্যালেঞ্জের পাহাড় ডিঙাতে হবে সরকারকে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্যমতে, চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে রাজস্ব আদায়ে বড় ঘাটতি রয়েছে। বিগত বছরগুলোর অর্থনৈতিক অস্থিরতা এবং অপরিকল্পিত ঋণের কারণে সরকারি আয়ের এক-পঞ্চমাংশই এখন ঋণের সুদ পরিশোধে ব্যয় হচ্ছে। সাবেক অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের উত্তরাধিকার নোটে নিম্নমানের কর আদায়, খেলাপি ঋণ এবং মূল্যস্ফীতির মতো কাঠামোজাত সমস্যার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ স্থবিরতা কাটানো সরকারের জন্য আরেকটি বড় পরীক্ষা। দেশে বিনিয়োগ দীর্ঘদিন ধরে জিডিপির ২২-২৩ শতাংশে আটকে আছে। ব্যবসায়ীদের আস্থা ফেরাতে এবং কর্মসংস্থান বাড়াতে সরকারকে দ্রুত সাহসী সংস্কার ও নীতি সহায়তা প্রদান করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে জানিয়ে দিয়েছেন, কাজের ক্ষেত্রে মেধা ও পেশাদারিত্বই হবে একমাত্র মানদণ্ড, যা প্রশাসনিক ও ব্যবসায়িক মহলে ইতিবাচক বার্তা দিতে পারে।
আইএমএফের পরামর্শ অনুযায়ী রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি এবং ব্যাংকিং খাতের সংস্কার করা না গেলে প্রবৃদ্ধি ৬ শতাংশে উন্নীত করা কঠিন হবে। অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, কর ব্যবস্থা আধুনিকায়ন, খেলাপি ঋণ হ্রাস এবং বন্ড মার্কেটের উন্নয়নের মাধ্যমে বিকল্প অর্থায়নের সুযোগ তৈরি করতে হবে। আগামী ১৮০ দিনে যদি সাহসী সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ট্যাক্স রিফর্ম ও সুশাসন নিশ্চিত করা যায়, তবেই অর্থনীতি পুনরায় গতিশীল হতে পারে। অন্যথায় উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও ঋণের চাপে জনদুর্ভোগ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এস এম/ ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬









