উত্তর আমেরিকা

আমদানি পণ্যের ওপর শুল্ক বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করার ঘোষণা ট্রাম্পের

ওয়াশিংটন, ২২ ফেব্রুয়ারি – যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আমদানি করা পণ্যের ওপর শুল্কের হার ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করার ঘোষণা দিয়েছেন।

শনিবার ২১ ফেব্রুয়ারি নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই নতুন নির্দেশনার কথা জানান।

যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালত ট্রাম্পের আগের শুল্কনীতি বাতিল করার ঠিক একদিন পরই তিনি এই পদক্ষেপ নিলেন।

এর আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছিলেন যে আদালত যেসব শুল্ক বাতিল করেছে তার পরিবর্তে যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি হওয়া সব পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ হারে শুল্ক আরোপ করা হবে। তবে শনিবার ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া পোস্টে তিনি ঘোষণা দেন যে এই হার এখন বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করা হবে।

এর আগে বিশ্বজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত একতরফা শুল্ককে অবৈধ ঘোষণা করে ঐতিহাসিক রায় দিয়েছিলেন মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট। আদালতের এই রায়কে উপেক্ষা করে নতুন করে শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত নিলেন ট্রাম্প।

ট্রাম্পের বৈশ্বিক শুল্কনীতি থেকে ২০২৬ থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে প্রায় ৩ দশমিক ৬ ট্রিলিয়ন ডলার রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল।

অক্সফোর্ড ইকোনমিকসের তথ্য অনুযায়ী সর্বোচ্চ আদালতের এই রায়ের ফলে কার্যকর শুল্কের হার ১২ দশমিক ৭ শতাংশ থেকে কমে ৮ দশমিক ৩ শতাংশে নেমে আসতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন ট্রাম্পের এই অনড় অবস্থান মার্কিন অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা বাড়িয়ে তুলবে।

সেন্টার ফর এ নিউ আমেরিকান সিকিউরিটির সিনিয়র ফেলো র‍্যাচেল জিয়েম্বা বলেন এটি ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য একটি বড় বাধা কারণ এখন চাইলেই দ্রুত শুল্ক কার্যকর করা কঠিন হবে।

গত এক বছরে ট্রাম্প কেবল রাজস্ব আদায়ের জন্য নয় বরং বিভিন্ন দেশকে মার্কিন পররাষ্ট্রনীতি মানতে বাধ্য করতেও শুল্ককে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করেছেন।

উদাহরণ হিসেবে রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনার কারণে ভারতের ওপর ২৫ শতাংশ শাস্তিমূলক শুল্ক আরোপ করার বিষয়টি উল্লেখ করা যায়।

বর্তমানে আইনি লড়াইয়ে শুল্ক আরোপের ক্ষমতা কিছুটা খর্ব হওয়ায় ট্রাম্প অন্যান্য অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা বা সামরিক শক্তির দিকে আরও বেশি ঝুঁকে পড়তে পারেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন বিশ্লেষকরা।

এনএন/ ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language