দক্ষিণ এশিয়া

দিনের বেলায় পার্লার, রাতে অপরাধ জগত: গ্রেফতার লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের ‘ম্যাডাম জেহের’

দিল্লি, ২০ ফেব্রুয়ারি – দিল্লির উত্তর-পূর্বাঞ্চলে একটি সাধারণ বিউটি পার্লারের আড়ালে মাদক ও অস্ত্রের রমরমা ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগে লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের এক নারী নেত্রীকে গ্রেফতার করেছে দিল্লি পুলিশ। ধৃত ওই নারীর নাম খুশনুমা আনসারি ওরফে নেহা, যিনি অপরাধ জগতে ‘ম্যাডাম জেহের’ নামে পরিচিত। দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল এক বিশেষ অভিযানে নেহা এবং তার সহযোগী শীর্ষ অস্ত্র সরবরাহকারী ববি কবুতর ওরফে মাহফুজকে আটক করেছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দিনের আলোয় বিউটি পার্লার চালালেও রাতের অন্ধকারে নেহা গ্যাংয়ের মাদক সিন্ডিকেট ও অবৈধ কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ করতেন। তিনি লরেন্স বিষ্ণোই ও হাশিম বাবা গ্যাংয়ের সংযোগকারী হিসেবে কাজ করতেন। তার সহযোগী ববি কবুতর ছিলেন এই চক্রের অন্যতম রসদ জোগানদাতা। তদন্তে উঠে এসেছে, ববি পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই-এর সঙ্গে যুক্ত কুখ্যাত অস্ত্র ব্যবসায়ী সেলিম পিস্তলের কাছ থেকে অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র সংগ্রহ করতেন।

তদন্তকারীদের দাবি, এই সিন্ডিকেটের সরবরাহ করা অস্ত্র ভারতের একাধিক হাই-প্রোফাইল অপরাধে ব্যবহৃত হয়েছে। এর মধ্যে পাঞ্জাবি গায়ক সিধু মুসেওয়ালা হত্যাকাণ্ড, বলিউড অভিনেত্রী দিশা পাটানির বাসভবনের বাইরে গুলিবর্ষণ, নাদির শাহ হত্যা এবং সিলামপুরের জোড়া খুনের ঘটনা উল্লেখযোগ্য। বিশেষ করে মুসেওয়ালা হত্যাকাণ্ডে ববি কবুতর রেকি করার দায়িত্বে ছিলেন এবং গায়কের গতিবিধির তথ্য শুটারদের কাছে পৌঁছে দিয়েছিলেন। তিনি গ্যাংস্টার শাহরুখের সঙ্গেও নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন।

দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ে নারীদের সক্রিয়তা বৃদ্ধি পেয়েছে। নেহা এই সিন্ডিকেটের তৃতীয় ‘লেডি ডন’ হিসেবে চিহ্নিত হলেন। এর আগে পুলিশ গ্যাংস্টার হাশিম বাবার স্ত্রী জয়া খান এবং দীপাকে গ্রেফতার করেছিল। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে দিল্লির মহিপালপুর ফ্লাইওভার এলাকা থেকে নেহা ও ববিসহ চারজনকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধার করা হয়েছে। বর্তমানে তাদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ এবং গ্যাংয়ের আর্থিক লেনদেনের উৎস খোঁজার চেষ্টা চলছে।

এস এম/ ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language