বড় প্রকল্পে অতিমূল্যায়ন ও দুর্নীতিতে দেশ ঋণঝুঁকির ফাঁদে: গবেষণা

ঢাকা, ১৯ ফেব্রুয়ারি – অবকাঠামো উন্নয়নের নামে হাতে নেওয়া বড় প্রকল্পগুলোতে অতিমূল্যায়ন, দুর্নীতি এবং দুর্বল শাসনের কারণে বাংলাদেশ ক্রমশ ঋণঝুঁকির ফাঁদের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বলে সতর্ক করেছেন গবেষকরা। তাঁদের মতে ঋণ নেওয়াটা মূল সমস্যা নয়, বরং ব্যয়ের ওপর নিয়ন্ত্রণ না থাকা, অস্বচ্ছ চুক্তি এবং জবাবদিহির অভাবই দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করছে।
রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘সরকারি ঋণ ও সুশাসন’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে গতকাল এই গবেষণা তথ্য তুলে ধরা হয়। যুক্তরাজ্যের লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথভাবে দেশের গবেষণা সংস্থা চেঞ্জ ইনিশিয়েটিভ এই গবেষণাটি পরিচালনা করেছে। গবেষণার তথ্যানুযায়ী ২০০৯ সালে বাংলাদেশের বৈদেশিক ঋণের স্থিতি ছিল ২৩.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা ২০২৫ সালে বেড়ে প্রায় ১১২ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। গত ১৬ বছরে এই বৃদ্ধির হার প্রায় ৩৭৭ শতাংশ।
সরকারি আয়ের এক-পঞ্চমাংশ এখন কেবল ঋণের সুদ পরিশোধেই চলে যাচ্ছে। ২০০৯ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ৪২টি বৃহৎ প্রকল্প বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে এর মধ্যে ২৯টি প্রকল্পে গড়ে ৭০.৩ শতাংশ ব্যয় বেড়েছে। অদক্ষতা ও দুর্নীতির কারণে প্রকল্পের মোট ব্যয়ের ২৩ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত অর্থ অপচয় হয়েছে। আলোচনায় অংশ নিয়ে অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক মুশতাক এইচ খান বলেন, প্রতিযোগিতাহীন চুক্তি ও রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে সামান্য বাড়তি দামও দীর্ঘমেয়াদে বিশাল আর্থিক দায় তৈরি করে। গবেষণায় বিদ্যুৎ খাতকে অর্থনীতির জন্য সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ২০২৫ সালে এ খাতের ক্যাপাসিটি চার্জ ৩৮ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিদ্যুৎ ব্যবহার না করলেও সরকারকে এই বিপুল অর্থ পরিশোধ করতে হচ্ছে। অনুষ্ঠানে বক্তারা শ্রীলঙ্কার অর্থনৈতিক সংকটের উদাহরণ টেনে বলেন, অপরিকল্পিত অবকাঠামো ঋণ দেশটিকে বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দিয়েছিল। বাংলাদেশেও ঋণের যে প্রবণতা দেখা যাচ্ছে তাতে ২০৩০ সাল নাগাদ ঋণ ও জিডিপির অনুপাত ৬৫ থেকে ৭০ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। চেঞ্জ ইনিশিয়েটিভের প্রধান নির্বাহী জাকির হোসেন খান বলেন, বৈদেশিক ঋণ ১০০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার পরও বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে বিপুল ভর্তুকি অব্যাহত রাখলে দেশ দ্রুত আর্থিক দেউলিয়াত্বের দিকে যাবে। ইউএনডিপির কান্ট্রি ইকোনমিক অ্যাডভাইজার ওয়াইস পারে এবং এফসিডিওর গভর্ন্যান্স অ্যাডভাইজার এমা উইন্ড আলোচনায় অংশ নিয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির ওপর জোর দেন। এ সময় বিপিডিবি ও বিএসআরইএ-র প্রতিনিধিরাও নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ নিয়ে তাঁদের মতামত তুলে ধরেন।
এস এম/ ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬









