বগুড়া

বগুড়ায় ৫শ টাকার জন্য যুবক খুন মরদেহ নিয়ে এসপি-ডিসি অফিস ঘেরাও, কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি

বগুড়া, ১৮ ফেব্রুয়ারি – বগুড়ায় মাদক কারবারির ছুরিকাঘাতে নিহত যুবক সুনীল বাঁশফোড়ের খুনিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে পুলিশ সুপার ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ঘেরাও করে তীব্র আন্দোলন গড়ে তুলেছে হরিজন সম্প্রদায়। বুধবার বেলা সাড়ে ১১টা থেকে মরদেহ নিয়ে শহরের সাতমাথায় অবস্থান কর্মসূচি ও বিক্ষোভ মিছিল করেন তারা।

এই বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে খুনিদের গ্রেপ্তারের জন্য প্রশাসনের প্রতি ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম ঘোষণা করা হয়েছে। জানা গেছে বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শহরের সেউজগাড়ি সুইপার কলোনি থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি শহরের প্রাণকেন্দ্র সাতমাথায় এসে পৌঁছালে সেখানে মরদেহ রেখে অবস্থান নেন বিক্ষোভকারীরা।

এতে শহরের প্রধান প্রধান সড়কে যান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। এরপর সাতমাথা থেকে মিছিলটি সরাসরি পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে গিয়ে অবস্থান নেয় এবং বিক্ষোভকারীরা অভিযুক্ত অনিকের ফাঁসিসহ বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। প্রায় এক ঘণ্টা পুলিশ সুপার কার্যালয় ঘেরাও করে রাখার পর বিক্ষোভকারীরা মিছিল নিয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে যান।

সেখানেও তাঁরা চত্বরে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন এবং দ্রুত বিচারের দাবি জানান। বিক্ষুব্ধ আন্দোলনকারীরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন যে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রধান আসামি অনিকসহ জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তার করা না হলে বগুড়াসহ সারাদেশে পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা অনির্দিষ্টকালের জন্য কাজ বন্ধ করে দেবেন। হরিজন সম্প্রদায়ের বগুড়া জেলা সভাপতি দিপক রাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন প্রকাশ্য দিবালোকে ৫০০ টাকার জন্য আমাদের এক ছেলেকে চাকু মেরে হত্যা করা হলো অথচ পুলিশ এখনো মূল আসামিকে ধরতে পারল না।

তিনি আরও জানান আমরা ২৪ ঘণ্টার সময় দিচ্ছি এবং এর মধ্যে আসামি ধরা না পড়লে কাল থেকে সারা দেশে পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা কাজ বন্ধ করে দেবে। এ বিষয়ে বগুড়া সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তফা মঞ্জুর আন্দোলনকারীদের আশ্বস্ত করে বলেন আসামিদের ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে। তিনি জানান সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিষয়টি দেখা হচ্ছে এবং এরই মধ্যে কয়েকজনকে শনাক্ত করা হয়েছে যাদের দ্রুতই আইনের আওতায় আনা হবে।

প্রসঙ্গত গত ১২ ফেব্রুয়ারি বগুড়া শহরের স্টেশন রোডে সেন্ট্রাল মসজিদের সামনে সুনীল বাঁশফোড়ের কাছে ৫০০ টাকা চাঁদা দাবি করেন অনিক নামের এক মাদক কারবারি। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে অনিক তাঁর পেট ও ঊরুতে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যান। প্রথমে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ও পরে অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

সেখানে চার দিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে গত সোমবার রাত ৯টার দিকে মারা যান সুনীল। নিহত সুনীল বাঁশফোড় শহরের সেউজগাড়ি সুইপার কলোনির সন্তোষ বাঁশফোড়ের ছেলে এবং এ ঘটনায় তাঁর বাবা বাদী হয়ে বগুড়া সদর থানায় মামলা করেছেন।

এ এম/ ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language