জাতীয়

বাংলাদেশে সংসদ সদস্যরা পান বেতন, ভাতা ও নানা সরকারি সুবিধা

ঢাকা, ১৮ ফেব্রুয়ারি – ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বিজয়ীদের শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে নতুন সরকার গঠিত হয়েছে। ইতিমধ্যেই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নেতৃত্বে নতুন মন্ত্রিসভা গঠিত হয়েছে। একজন সংসদ সদস্য কী সুবিধা পান এবং তাদের বেতন-ভাতা কত—এ নিয়ে জনমনে আগ্রহ আছে। বাংলাদেশে একজন সংসদ সদস্য মাসিক বেতন ছাড়াও বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেন। পাশাপাশি তাদের ওপর থাকে নানাবিধ দায়িত্ব ও ক্ষমতা।

বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী একজন সংসদ সদস্য যেসব সুযোগ-সুবিধা পান, সেগুলো হলো—

১. সংসদ সদস্যদের মাসিক বেতন ৫৫,০০০ টাকা
২. নির্বাচনী এলাকার ভাতা প্রতি মাসে ১২,৫০০ টাকা
৩. সম্মানী ভাতা প্রতি মাসে ৫,০০০ টাকা
৪. শুল্কমুক্তভাবে গাড়ি আমদানি করার সুবিধা
৫. মাসিক পরিবহন ভাতা ৭০,০০০ টাকা
৬. নির্বাচনী এলাকায় অফিস খরচের জন্য প্রতি মাসে ১৫,০০০ টাকা
৭. লন্ড্রি ভাতা প্রতি মাসে ১,৫০০ টাকা
৮. মাসিক ক্রোকারিজ ও টয়লেট্রিজ কেনার জন্য ৬,০০০ টাকা
৯. দেশের অভ্যন্তরে বার্ষিক ভ্রমণ খরচ ১২০,০০০ টাকা
১০. স্বেচ্ছাধীন তহবিল বার্ষিক ৫ লাখ টাকা
১১. বাসায় টেলিফোন ভাতা প্রতি মাসে ৭,৮০০ টাকা
১২. সংসদ সদস্যদের জন্য সংসদ ভবন এলাকায় এমপি হোস্টেল রয়েছে।

এছাড়া ২০১৫-২০১৯ সাল পর্যন্ত একজন সংসদ সদস্য প্রতিবছর ৪ কোটি টাকা করে থোক বরাদ্দ পাবেন। এর আগে এই বরাদ্দের পরিমাণ ছিল ২ কোটি টাকা।

সংসদ সদস্যদের আরও নানাবিধ প্রভাবও থাকে।

আইন অনুযায়ী, নির্ধারিত বেতন-ভাতা পাওয়ার পাশাপাশি একজন সংসদ সদস্য নির্বাচনী এলাকায় সবচেয়ে ক্ষমতাশালী হিসেবে পরিচিত হন।

ড. ইফতেখারুজ্জামান, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক, বলেন, ‘সংবিধান অনুযায়ী সংসদ সদস্যদের ক্ষমতা হচ্ছে আইন প্রণয়নে ভূমিকা রাখা। কিন্তু এটি ক্রমশ প্রশাসনিক ও নির্বাহী ক্ষমতায় রূপান্তরিত হয়েছে।’

এছাড়া স্থানীয় পর্যায়ে কাজের বিনিময়ে খাদ্য, বয়স্ক ভাতা, নানা সামাজিক নিরাপত্তা-বেষ্টনীসহ প্রায় ৪০ ধরনের প্রকল্প আছে। এসব প্রকল্প থেকে কারা সুবিধা পাবেন, তা স্থানীয় সংসদ সদস্যের সম্মতির ভিত্তিতে ঠিক হয় বলে তিনি মনে করেন। এছাড়া এলাকার শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসহ নানা প্রতিষ্ঠানে সংসদ সদস্যদের সম্পৃক্ততা থাকে।

স্থানীয় পর্যায়ে চাকরি প্রদানের ক্ষেত্রে অনেক সংসদ সদস্যদের একচ্ছত্র আধিপত্য থাকে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

অতীতে বিভিন্ন সময়ে অনেক সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দুর্নীতির আশ্রয় নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এছাড়া স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের ওপর সংসদ সদস্যদের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ থাকার বিষয়ও বিভিন্ন সময়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।

এনএন/ ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language