দুই মাস ধরে কারাগারে সাংবাদিক আনিস আলমগীর, সন্ত্রাসবিরোধী ও দুদক আইনের ফেরে

ধানমন্ডি, ১৭ ফেব্রুয়ারি – সরকারের সমালোচনা করার জেরে ও একাধিক মামলায় অভিযুক্ত হয়ে গত দুই মাস ধরে কারাগারে রয়েছেন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক আনিস আলমগীর। গত বছরের ১৪ ডিসেম্বর রাজধানীর ধানমন্ডির একটি শরীরচর্চা কেন্দ্র থেকে তাঁকে তুলে নেওয়ার পর বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁকে রিমান্ডেও নেওয়া হয়েছিল। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে একজন সাংবাদিককে এভাবে গ্রেপ্তারের ঘটনায় মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিভিন্ন মহল। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়া আটকের পর মামলায় জড়ানোর বিষয়টিকে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের আচরণের সঙ্গে তুলনা করে নিন্দা জানিয়েছে একাধিক মানবাধিকার ও সাংবাদিক সংগঠন।
সরকারের কঠোর সমালোচনা করার কারণেই সাংবাদিক আনিস আলমগীরের এই পরিণতি কি না, এমন প্রশ্নও তুলছেন অনেকে। বারবার জামিন বাতিল হওয়ায় শুনানির পর আদালত চত্বরে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ ও কান্নাও করেছেন। ধানমন্ডির জিম থেকে আটকের পর আনিস আলমগীরকে ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়। ওই দিন গভীর রাতে জুলাই রেভল্যুশনারি অ্যালায়েন্স নামের একটি সংগঠনের সংগঠক আরিয়ান আহমেদ উত্তরা পশ্চিম থানায় আনিস আলমগীরসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে উল্লেখ করা হয় যে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে অভিযুক্তরা সোশ্যাল মিডিয়া ও টিভি টকশোতে নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের প্রোপাগান্ডা চালাচ্ছেন।
সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের করা ওই মামলায় পুলিশ সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করলে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে পাঁচ দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন। রিমান্ড শেষে ২০ ডিসেম্বর তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে ১৫ জানুয়ারি দুর্নীতি দমন কমিশন বা দুদক তাঁর বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে মামলা করে। মামলার এজাহারে বলা হয় আনিস আলমগীরের বৈধ আয়ের বাইরে ৩ কোটি ২৬ লাখ ৪৮ হাজার ৯৩৮ টাকার সম্পদ পাওয়া গেছে যা তাঁর মোট অর্জিত সম্পদের প্রায় ৭৭ শতাংশ। দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২৮ জানুয়ারি ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. সাব্বির ফয়েজ তাঁকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্র এক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে একজন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের প্রয়োগ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের মৌলিক নীতির পরিপন্থী এবং এটি সাংবাদিকতার ওপর সরাসরি আঘাত।
এসএএস/ ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬









