জাতীয়

নির্বাচন পরবর্তী পুঁজিবাজারে উল্লম্ফন ও টেকসই বাজারের চ্যালেঞ্জ

ঢাকা, ১৬ ফেব্রুয়ারি – ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর প্রথম কার্যদিবসেই দেশের পুঁজিবাজারে বড় ধরনের উত্থান দেখা গেছে যাকে বিশ্লেষকরা আশাবাদতাড়িত উল্লম্ফন হিসেবে অভিহিত করছেন। দীর্ঘদিনের স্থবিরতা ও দরপতনের পর বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সৃষ্ট এই প্রাণচাঞ্চল্য মূলত একটি স্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশের প্রত্যাশা এবং নতুন সরকারের প্রতি আস্থার প্রতিফলন।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সূচক ও লেনদেনের এই ইতিবাচক চিত্র প্রমাণ করে যে বাজার দীর্ঘদিন ধরে অবমূল্যায়িত অবস্থায় ছিল। সংশ্লিষ্টদের মতে পুঁজিবাজার ও অর্থনীতির সম্পর্ক অবিচ্ছেদ্য তাই রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরলে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াবে এবং এর ইতিবাচক প্রভাব শেয়ারবাজারেও পড়বে। তবে বর্তমানের এই চাঙ্গাভাব দীর্ঘ মেয়াদে ধরে রাখাই এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে কেবল নির্বাচনী উদ্দীপনা দিয়ে বাজারকে বেশিদিন ইতিবাচক রাখা সম্ভব নয় বরং এর জন্য প্রয়োজন সামষ্টিক অর্থনীতির সূচকগুলোর দৃশ্যমান উন্নতি।

বিশেষ করে সুদের হার কমিয়ে আনা এবং বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়িয়ে জিডিপি প্রবৃদ্ধি লক্ষ্যমাত্রায় নিয়ে যাওয়া জরুরি। এই লক্ষ্য অর্জনে সরকারকে রাজস্বনীতি ও মুদ্রানীতির মধ্যে সমন্বয়সাধনসহ কিছু সাহসী সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে। এছাড়া বাজারের গভীরতা বাড়াতে ভালো শেয়ারের জোগান দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অন্তর্বর্তী সরকার এরই মধ্যে লাভজনক সরকারি ও বহুজাতিক কোম্পানিগুলোকে বাজারে আনার ব্যাপারে কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে যা নতুন সরকারকে বাস্তবায়ন করতে হবে। বাজারে ভালো শেয়ারের জোগান বাড়লে কারসাজি বা কৃত্রিম সংকটের ভয় কমবে। একইসঙ্গে নির্বাচনের ইশতেহারে থাকা পুঁজিবাজার সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দ্রুত কার্যকর এবং সুশাসন নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির মাধ্যমে একটি শক্তিশালী পুঁজিবাজার গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়েছে।

এস এম/ ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language