বিদায় নিচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার, কাল শপথ নিচ্ছেন তারেক রহমান

ঢাকা, ১৬ ফেব্রুয়ারি – সুদৃশ্য সকাল সব সময় সুন্দর দিনের বার্তা দেয় না—এমনই এক পরিস্থিতির সাক্ষী হয়েছে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার। আগামীকাল মঙ্গলবার বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে একটি নির্বাচিত সরকার দেশের দায়িত্ব গ্রহণ করতে যাচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে সমাপ্তি ঘটবে ড. ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদের।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ নতুন সরকারের প্রতি রায় দিয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ৮ আগস্ট ড. ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত সরকার বিপুল জনসমর্থন নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল। তবে গত ১৮ মাসের শাসনামল শেষে জনমনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও হতাশা দেখা দিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, অন্তর্বর্তী সরকার জাতির প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে এবং দেশ বিভক্তি ও প্রতিহিংসার রাজনীতির শিকার হয়েছে।
নোবেলজয়ী এই ব্যক্তিত্বের শাসনামলে তাঁর বিরুদ্ধে থাকা শ্রম আইন লঙ্ঘন ও অর্থ পাচারসহ একাধিক মামলা দ্রুত প্রত্যাহার এবং গ্রামীণ ব্যাংকের বিপুল কর মওকুফের ঘটনা জনমনে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। এ সময়ে গ্রামীণ ব্যাংকে সরকারি মালিকানা হ্রাস এবং ‘গ্রামীণ ইউনিভার্সিটি’র অনুমোদনসহ বিভিন্ন সিদ্ধান্তে স্বচ্ছতার অভাব ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ও ‘মব জাস্টিস’ ছিল এই সরকারের আমলের অন্যতম আলোচিত বিষয়। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের ২০২৬ সালের প্রতিবেদনেও মানবাধিকার সংস্কারে সরকারের ব্যর্থতার চিত্র উঠে এসেছে। এছাড়া সংখ্যালঘু ও নারীদের ওপর হামলার ঘটনা এবং বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগও ছিল প্রবল।
অর্থনৈতিক খাতেও সংকট ঘনীভূত হয়েছে; মূল্যস্ফীতি ৮ শতাংশের ওপরে স্থির থাকা এবং দারিদ্র্যের হার বৃদ্ধি জনজীবনে চাপ সৃষ্টি করেছে। বিশ্বব্যাংক ও পিপিআরসির তথ্যমতে, দারিদ্র্যের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। শিক্ষাঙ্গনে অস্থিরতা, গণমাধ্যমে ভীতিকর পরিবেশ এবং ভিন্নমত দমনে সরকারের ভূমিকা নিয়েও সমালোচনা রয়েছে। সব মিলিয়ে, জুলাই আন্দোলনের মাধ্যমে অর্জিত সুযোগ কাজে লাগাতে অন্তর্বর্তী সরকার ব্যর্থ হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
এসএএস/ ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬









