ইসলাম

ইসলামে ঝগড়া-বিবাদের পরিণতি ও মহানবী (সা.)-এর কঠোর সতর্কতা

জান্নাত, ১৫ ফেব্রুয়ারি – ইসলাম ধর্মে যেসব বিষয় কঠোরভাবে অপছন্দ করা হয়েছে, তার মধ্যে অন্যতম হলো ঝগড়া-বিবাদ বা ফ্যাসাদ সৃষ্টি করা। এই বদভ্যাস মানুষের ঈমানের মাধুর্য নষ্ট করার পাশাপাশি সমাজে চরম বিশৃঙ্খলা তৈরি করে। মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআনে মুমিন বান্দাদের এই বিষয়ে বিশেষভাবে সতর্ক করেছেন। পবিত্র কোরআনের সুরা বাকারার ২০৪ নম্বর আয়াতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, মানুষের মধ্যে এমন কিছু ব্যক্তি আছে যাদের কথাবার্তা দুনিয়ার জীবনে মানুষকে বিস্মিত করে এবং তারা নিজেদের অন্তরের বিষয়ের ওপর আল্লাহকে সাক্ষী রাখে, অথচ তারা মূলত চরম ঝগড়াটে।

হাদিস শরিফে ঝগড়া ও অশ্লীল বাক্যবিনিময়কে মোনাফেকি বা কপটতার লক্ষণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, চারটি দোষ যার মধ্যে বিদ্যমান থাকে সে খাঁটি মোনাফিক। এর মধ্যে অন্যতম হলো ঝগড়ার সময় অশ্লীল ভাষা ব্যবহার করা। নবীজি (সা.) আরও বলেছেন, আল্লাহর কাছে সেই ব্যক্তি সবচেয়ে বেশি ঘৃণিত যে অতিশয় ঝগড়াটে। সামাজিকভাবে অনেকে প্রভাব বিস্তারের জন্য বিবাদের পথ বেছে নেয়, যা ইসলামে অত্যন্ত নিন্দনীয়।

উম্মুল মুমিনিন হযরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত একটি ঘটনায় দেখা যায়, রাসুলুল্লাহ (সা.) এক ব্যক্তিকে সমাজের নিকৃষ্ট বলার পরও তার সঙ্গে হাসিমুখে ও উদারভাবে কথা বলেছেন। পরে তিনি ব্যাখ্যা দেন যে, কিয়ামতের দিন আল্লাহর কাছে সেই ব্যক্তি সবচেয়ে নিকৃষ্ট হবে, যার খারাপ ব্যবহারের ভয়ে মানুষ তাকে এড়িয়ে চলে। তাই ইসলাম অহেতুক তর্ক ও বিবাদ থেকে নিজেকে নিরাপদ দূরত্বে রাখার নির্দেশ দেয়। এমনকি ন্যায়সংগত অবস্থানে থেকেও যিনি ঝগড়া পরিহার করেন, তার জন্য জান্নাতে বিশেষ পুরস্কারের ঘোষণা দিয়েছেন বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)।

এস এম/ ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language