বিদ্রোহী প্রার্থীর জেরে পাবনায় বিএনপির দুই হেভিওয়েটের পরাজয়, জামায়াতের জয়

পাবনা, ১৫ ফেব্রুয়ারি – ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পাবনা জেলার পাঁচটি আসনে মোট ২৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এর মধ্যে বেশ কয়েকজন হেভিওয়েট প্রার্থী থাকলেও অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীদের কারণে ভোটের সমীকরণ জটিল হয়ে ওঠে। বিশেষ করে পাবনা ৩ ও ৪ আসনে বিএনপির দুজন হেভিওয়েট প্রার্থীকে পরাজয়ের স্বাদ নিতে হয়েছে। তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতার পর এই দুটি আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা জয়লাভ করেছেন।
পরাজিত প্রার্থীরা অবশ্য ভোট গণনায় কারসাজির অভিযোগ এনে ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে পুনরায় গণনার দাবি জানিয়েছেন। পরাজিত দুই হেভিওয়েট নেতা হলেন পাবনা ৪ আসনে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব এবং পাবনা ৩ আসনে কেন্দ্রীয় কৃষক দলের সভাপতি হাসান জাফির তুহিন। রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে নির্বাচনী প্রচারণার শুরু থেকেই পাবনার ১ ৩ ও ৪ নম্বর আসন নিয়ে ভোটারদের মাঝে ব্যাপক আগ্রহ ও উত্তেজনা বিরাজ করছিল যা ফলাফলের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অব্যাহত ছিল।
পাবনা ৩ আসনটি চাটমোহর ভাঙ্গুড়া ও ফরিদপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত যেখানে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছিলেন হাসান জাফির তুহিন। কিন্তু তাঁর পৈতৃক নিবাস সুজানগর হওয়ায় স্থানীয় বিএনপির একটি অংশ তাঁকে বহিরাগত আখ্যা দিয়ে শুরু থেকেই বিরোধিতা করে আসছিল। শেষ পর্যন্ত দলটির সাবেক সংসদ সদস্য কে এম আনোয়ারুল ইসলাম স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ঘোড়া প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেন এবং এতেই বিএনপি প্রার্থীর ভোট ভাগ হয়ে যায়। এই সুযোগে জামায়াতের প্রার্থী আলী আছগার এক লাখ ৪৭ হাজার ৪৭৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন যেখানে তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হাসান জাফির তুহিন পান এক লাখ ৪৪ হাজার ২০৬ ভোট। স্বতন্ত্র প্রার্থী আনোয়ার পান ৩৮ হাজার ২৭ ভোট যা বিএনপির পরাজয়ের অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ফলাফল ঘোষণার পর হাসান জাফির তুহিন বেশ কিছু কেন্দ্রের ফলাফলের শিটে পোলিং এজেন্টের স্বাক্ষর না থাকাসহ গণনায় অনিয়ম হয়েছে দাবি করে পুনরায় ভোট গণনার আবেদন করেছেন। ঈশ্বরদী ও আটঘরিয়া উপজেলা নিয়ে গঠিত পাবনা ৪ আসনেও চিত্রটি অনেকটা একই রকম। এখানে বিএনপির প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিবের বিরুদ্ধে দলের একাংশ অবস্থান নেয় এবং ঈশ্বরদী পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া পিন্টু বিদ্রোহী প্রার্থী হন। মোটরসাইকেল প্রতীকে নির্বাচন করে পিন্টু ২৭ হাজার ৯৭০ ভোট পান যা শেষ পর্যন্ত বিএনপি প্রার্থীর পরাজয় ত্বরান্বিত করে। এই আসনে জামায়াতের প্রার্থী জেলা জামায়াতের আমীর আবু তালেব মণ্ডল এক লাখ ৩৭ হাজার ৬৭৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। বিএনপি প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিব পান এক লাখ ৩৩ হাজার ৮৭৪ ভোট এবং তিনিও মাত্র তিন হাজার ৮০১ ভোটের ব্যবধানে হেরে যান। হাবিবুর রহমান হাবিবও প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে কারচুপির অভিযোগ তুলে পুনরায় ভোট গণনার দাবি জানিয়েছেন।
তবে পাবনা ৫ সদর আসনে বিএনপির প্রার্থী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস এক লাখ ৮২ হাজার ৯২৫ ভোট পেয়ে বিশাল ব্যবধানে জয়লাভ করেছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর ইকবাল হুসাইন পেয়েছেন এক লাখ ৬৪ হাজার ৯৯৪ ভোট। এছাড়া পাবনা ১ আসনে জামায়াতের প্রার্থী ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন এক লাখ ২৮ হাজার ৪৬৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষের প্রার্থী শামসুর রহমান এক লাখ তিন হাজার ৬৬৩ ভোট পান। অন্যদিকে সুজানগর ও বেড়া উপজেলা নিয়ে গঠিত পাবনা ২ আসনে বিএনপির সাবেক এমপি কে এম সেলিম রেজা হাবিব দুই লাখ ১৫ হাজার ৪০৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন এবং জামায়াতের প্রার্থী হেসাব উদ্দিন ৭৭ হাজার ২৪২ ভোট পেয়েছেন।
জেলা বিএনপির সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট মাসুদ খন্দকার জানিয়েছেন যে দলীয় প্রার্থীরা খুবই সামান্য ব্যবধানে হেরেছেন এবং বিদ্রোহী প্রার্থীদের কারণেই এই বিপর্যয় ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। এর বাইরে কোনো কারসাজি আছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে তিনি জানান।
এ এম/ ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬









