দক্ষিণ এশিয়া

বিএনপি নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশের সঙ্গে কি সম্পর্ক পুনরুদ্ধার করতে পারবে ভারত?

নয়াদিল্লি, ১৫ ফেব্রুয়ারি – জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বা বিএনপির ভূমিধস জয়ের পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নতুন সরকারকে সতর্কতার সঙ্গে উষ্ণ শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। তিনি ষাট বছর বয়সী তারেক রহমানকে জয়ের জন্য অভিনন্দন জানিয়ে একটি গণতান্ত্রিক ও প্রগতিশীল বাংলাদেশকে সমর্থনের আশ্বাস দেন।

মোদি জানান যে তিনি বাংলাদেশের সঙ্গে বহুমুখী সম্পর্ক জোরদারে গভীরভাবে কাজ করবেন। তার এই শুভেচ্ছা বার্তাকে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জেন-জি গণঅভ্যুত্থানে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পর দুই দেশের আস্থার যে সংকট তৈরি হয়েছিল তা কাটিয়ে ওঠা সহজ হবে না। হাসিনার শাসনামলে ভারতের একচেটিয়া সমর্থনের কারণে অনেক বাংলাদেশি ভারতকে দোষারোপ করেন।

এছাড়া সীমান্ত হত্যা ও পানি বন্টন বিরোধসহ বাণিজ্যে নানা বিধিনিষেধের কারণে দুই দেশের সম্পর্ক তলানিতে ঠেকেছে। বর্তমানে ভিসা প্রদান প্রায় বন্ধ এবং আন্তঃদেশীয় যোগাযোগ ব্যবস্থাও সীমিত হয়ে পড়েছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন ভারতের পক্ষে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক পুনঃস্থাপন সম্ভব হলেও তার জন্য সংযম ও পারস্পরিক সহযোগিতার প্রয়োজন হবে। লন্ডনের সোয়াস বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক অবিনাশ পালিওয়াল বিবিসিকে জানিয়েছেন যে রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার বিচারে বিএনপি এখন ভারতের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য বিকল্প হতে পারে। তবে তারেক রহমান কীভাবে দেশ শাসন করবেন এবং ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক কতটা স্থিতিশীল করতে পারবেন তা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়।

অতীতে ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময় ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি ঘটেছিল এবং বিচ্ছিন্নতাবাদীদের কার্যক্রম ও ১০ ট্রাক অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় অবিশ্বাস তৈরি হয়। ২০১৪ সালে খালেদা জিয়া ভারতের তৎকালীন রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বৈঠক বাতিল করলে সেই দূরত্ব আরও বাড়ে।

ভারত গত ১৫ বছরে শেখ হাসিনার ওপর সর্বোচ্চ বিনিয়োগ করেছিল যা কৌশলগতভাবে মূল্যবান হলেও রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত ব্যয়বহুল প্রমাণিত হয়েছে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ড এবং তাকে ফেরত না দেওয়ার বিষয়টি বর্তমানে দুই দেশের সম্পর্কের অন্যতম বাধা। খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর গত ডিসেম্বরে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বাংলাদেশে এসে তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন। এদিকে শেখ হাসিনার পতনের পর পাকিস্তান ও বাংলাদেশের সম্পর্ক নতুন মোড় নিয়েছে এবং দীর্ঘ ১৪ বছর পর সরাসরি বিমান চলাচল শুরু হয়েছে।

ওপি জিন্দাল গ্লোবাল ইউনিভার্সিটির শ্রীরাধা দত্ত মনে করেন ভারতে অবস্থানরত আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের পুনর্বাসনের চেষ্টা করা দিল্লির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন নতুন সম্পর্ক নির্ভর করবে বাংলাদেশ সরকার ভারত বিরোধী মনোভাব কতটা কমাতে পারে এবং ভারত উস্কানিমূলক আচরণ কতটা বন্ধ করতে পারে তার ওপর।

এনএন/ ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language