জেন-জি অভ্যুত্থানের পর নির্বাচনে এনসিপির ফলাফল ও রাজনৈতিক সমীকরণ

ঢাকা, ১৪ ফেব্রুয়ারি – বাংলাদেশে জেন-জি অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে ৩০০ আসনের সংসদে মাত্র ছয়টি আসন পেয়েছে যুবনির্ভর দল জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপি।
গত শুক্রবার অর্থাৎ ১৩ ফেব্রুয়ারি ঘোষিত নির্বাচনী ফলাফলে দেখা যায় ভোটাররা বিপুলভাবে সমর্থন দিয়েছেন দীর্ঘদিনের প্রতিষ্ঠিত দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বা বিএনপিকে। দলটি এর আগে তিন দফা দেশ শাসন করেছে এবং সবশেষ ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় ছিল।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলনে শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর রাজনীতিতে আত্মপ্রকাশ করে এনসিপি তবে প্রতিদ্বন্দ্বী জোটের অংশ হিসেবে এবারের নির্বাচনে তাদের ফলাফল ছিল বেশ হতাশাজনক। এনসিপির অনেক সমর্থক অভিযোগ করেন যে গত ডিসেম্বর মাসে ইসলামপন্থি দল জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোট করে দলটি কার্যত নিজেদের প্রতিযোগিতা থেকে সরিয়ে নেয়। শুরুর দিকে প্রায় সব আসনে প্রার্থী দেওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত জোটের অংশ হিসেবে মাত্র ৩০টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে এনসিপি।
দলটির দাবি ঢাকায় আন্দোলনের এক গুরুত্বপূর্ণ সদস্য নিহত হওয়ার পর বড় রাজনৈতিক শক্তির সমর্থন প্রয়োজন হওয়ায় তারা জোটে যোগ দিতে বাধ্য হয়।
বিশ্লেষকদের মতে নির্বাচনের আগে পর্যাপ্ত সময় না পাওয়ায় এনসিপি শক্তিশালী জনভিত্তি গড়ে তুলতে পারেনি।
২৩ বছর বয়সী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী সোহানুর রহমান জানান ২০২৪ সালের আন্দোলনের পর মানুষের যে আশা তৈরি হয়েছিল এনসিপি তা পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছে।
জামায়াতের সঙ্গে জোট করা অনেক তরুণ ভোটারের কাছে নেতিবাচক মনে হয়েছে।
এনসিপির জয়ী ছয় প্রার্থীর একজন ৩২ বছর বয়সী আইনজীবী ও দলের যুগ্ম সম্পাদক আবদুল্লাহ আল আমিন বলেন তারা আরও বেশি আসন জয়ের প্রত্যাশা করেছিলেন। তিনি দাবি করেন জামায়াতের সঙ্গে জোট করার সিদ্ধান্তই এনসিপিকে অন্তত ছয়টি আসন জিততে সহায়তা করেছে।
তবে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক শাকিল আহমেদের মতে এই জোট তরুণ ভোটারদের দূরে সরিয়ে দিয়েছে।
অনেকেই এটিকে নতুন রাজনীতির সূচনা নয় বরং পুরোনো রাজনীতিতে ফিরে যাওয়া হিসেবে দেখেছেন যার ফলে তরুণ ভোট বিভক্ত হয়েছে এবং তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি আরও সংগঠিত বিকল্প হিসেবে উঠে এসেছে।
এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ জানিয়েছেন দলটি বিরোধী অবস্থান থেকে নিজেদের পুনর্গঠন করবে এবং আগামী এক বছরের মধ্যে অনুষ্ঠিতব্য স্থানীয় সরকার নির্বাচনে গুরুত্ব দেবে।
দলের প্রধান নাহিদ ইসলাম ডিসেম্বরে জানিয়েছিলেন তারা দল গঠনের জন্য পর্যাপ্ত সময় পাননি এবং অর্থের স্বল্পতাও একটি বড় বাধা ছিল।
পরাজিতদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য তরুণ প্রার্থী ছিলেন ৩১ বছর বয়সী চিকিৎসক তাসনিম জারা যিনি জোটের প্রতিবাদে এনসিপি ছেড়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেন। প্রায় ৪৪ হাজার ভোট পেলেও বড় ব্যবধানে বিএনপি প্রার্থীর কাছে পরাজিত হন তিনি।
তাসনিম জারা জানান পরিচ্ছন্ন রাজনীতি টিকিয়ে রাখতে হলে শক্তিশালী সংগঠন গড়ে তোলা জরুরি এবং তাদের সেরা দিনগুলো এখনো সামনে রয়েছে।
এনএন/ ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬









