ভালোবাসা দিবসেও পর্যটকশূন্য কুয়াকাটা, লোকসানে ব্যবসায়ীরা

কুয়াকাটা, ১৪ ফেব্রুয়ারি – বিশ্ব ভালোবাসা দিবস ও বসন্ত বরণকে কেন্দ্র করে প্রতিবছর পর্যটকদের পদচারণায় মুখর থাকে সাগরকন্যা কুয়াকাটা। তবে এবারের চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। পর্যটকদের উপস্থিতি আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় দীর্ঘ ২২ কিলোমিটার সৈকতজুড়ে বিরাজ করছে সুনসান নীরবতা। এই স্থবিরতার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে পর্যটননির্ভর ব্যবসায়ীদের ওপর।
কাঙ্ক্ষিত পর্যটক না আসায় হোটেল, রেস্তোরাঁ ও অন্যান্য সেবাখাতের উদ্যোক্তারা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। পর্যটন সংশ্লিষ্টদের মতে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরবর্তী পরিস্থিতির কারণে গত প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে এমন অচলাবস্থা চলছে। বর্তমানে সৈকতে হাতেগোনা যে কয়েকজন পর্যটক অবস্থান করছেন, তারা সমুদ্রস্নানে বা দর্শনীয় স্থান ঘুরে সময় কাটাচ্ছেন।
কেউ কেউ খালি পায়ে সৈকতের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে হেঁটে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করছেন। সৈকত সংলগ্ন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা জানান, ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে সাধারণত হাজারো পর্যটকের সমাগম ঘটে। কিন্তু এবার সৈকতের বেঞ্চগুলো ফাঁকা পড়ে আছে। পর্যটক শূন্যতায় তারা চরম লোকসানে পড়েছেন। কুয়াকাটা সী ট্যুরিজমের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. জনি আলমগীর জানান, পর্যটক না থাকায় তাদের দিন কাটছে অলস সময়। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এম.এ মোতালেব শরীফ জানান, নির্বাচনের প্রভাবের পাশাপাশি সামনে রমজান মাস থাকায় পর্যটক খরা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। রাজনৈতিক বাস্তবতায় এ বছর ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের লোকসানের কবলে পড়েছেন। সার্বিক বিষয়ে কুয়াকাটা ট্যুরিস্ট পুলিশ রিজিয়নের সহকারী পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান বলেন, সৈকতে পর্যটক উপস্থিতি খুবই নগণ্য। তবে যারা আসছেন, তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ট্যুরিস্ট পুলিশ সার্বক্ষণিক তৎপর রয়েছে এবং বিভিন্ন স্পটে টহল অব্যাহত রাখা হয়েছে।
এস এম/ ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬









