সিলেটে বিএনপির বড় জয় নতুন মন্ত্রিসভায় কারা থাকছেন, চলছে নানামুখী আলোচনা

সিলেট, ১৪ ফেব্রুয়ারি – সিলেট বিভাগের ১৯টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ১৮টিতেই জয়লাভ করে চমক দেখিয়েছে বিএনপি। দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কঠিন সময়ে যুক্তরাজ্যের প্রবাসী সিলেটিরা তাকে সর্বাত্মক সমর্থন দিয়ে আসছেন। দেশের উত্তর পূর্বাঞ্চলীয় জনপদ সিলেট স্বাধীনতার পর থেকেই উন্নয়ন বৈষম্যের শিকার বলে মনে করেন এ অঞ্চলের বাসিন্দারা। বিগত সরকারগুলোর মন্ত্রিসভায় সিলেটের মন্ত্রীরা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করলেও কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হয়নি বলে অনেকের অভিযোগ। তবে এবার সেই বৈষম্য দূর হবে বলে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা। এ কারণেই আসন্ন মন্ত্রিসভা গঠনের দিকে তাকিয়ে আছেন সিলেটবাসী। মন্ত্রিসভায় সিলেটের প্রতিনিধিত্ব কেমন হবে বা কারা জায়গা পাবেন তা নিয়ে এখন সর্বত্র আলোচনা চলছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এ নিয়ে চলছে নানা জল্পনা ও জরিপ। সম্ভাব্য মন্ত্রী হিসেবে বেশ কয়েকজনের নাম উঠে এসেছে। এদের মধ্যে রয়েছেন সিলেট ১ আসনে বিজয়ী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির এবং সিলেট ৪ আসনে বিজয়ী ও সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। এছাড়া হবিগঞ্জ ১ আসনের ড. রেজা কিবরিয়া, হবিগঞ্জ ২ আসনের ডা. সাখাওয়াত হোসেন জীবন, সুনামগঞ্জ ৫ আসনের কলিম উদ্দিন মিলন ও মৌলভীবাজার ৩ আসনের এম নাসের রহমানের নামও আলোচনায় রয়েছে। দলীয় প্রার্থীর বাইরে জোটের শরিক জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের কেন্দ্রীয় সভাপতি উবায়দুল্লাহ ফারুকের নামও শোনা যাচ্ছে। টেকনোক্র্যাট কোটায় মন্ত্রিসভায় স্থান পাওয়া নিয়ে দুজনের নাম জোরেশোরে শোনা যাচ্ছে। এদের মধ্যে বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবীর অন্যতম। তিনি প্রথমে সিলেট ২ আসনে মনোনয়ন চেয়েছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে দল থেকে তাহসিনা রুশদীর লুনাকে মনোনয়ন দেওয়া হলে তিনি সরে দাঁড়ান। এছাড়া বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ড. মো. এনামুল হকের নামও টেকনোক্র্যাট কোটায় আলোচিত হচ্ছে।
সিলেটবাসী প্রত্যাশা করছেন যে তাদের মধ্যে কেউ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে পারেন। দলীয় সূত্র নিশ্চিত করেছে যে যাদের নাম আলোচনায় রয়েছে তাদের অধিকাংশই বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করছেন। দলের হাইকমান্ডের আলোচনায় সম্ভাব্য দফতর নিয়েও কথা হচ্ছে। খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরকে বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এবং আরিফুল হক চৌধুরীকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে বলে গুঞ্জন রয়েছে। এছাড়া ড. রেজা কিবরিয়াকে অর্থ বা পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় এবং উবায়দুল্লাহ ফারুককে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে। টেকনোক্র্যাট কোটায় হুমায়ুন কবির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এবং ড. মো. এনামুল হক অন্য কোনো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আসতে পারেন। সিলেটের নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা এ বিষয়ে তাদের মতামত ব্যক্ত করেছেন। সংক্ষুব্ধ নাগরিক আন্দোলনের সমন্বয়ক আব্দুল করিম চৌধুরী কিম বলেন যে মন্ত্রিসভায় সিলেটের প্রতিনিধিত্ব থাকাটা স্বাভাবিক চাওয়া। তবে সংখ্যার চেয়ে যোগ্যতাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন যে সিলেটের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে যেসব সমস্যায় ভুগছে তা সমাধানের মতো যোগ্য ব্যক্তিকে মন্ত্রিসভায় স্থান দেওয়া উচিত। যদিও মন্ত্রীরা কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলের নন তবুও নিজ এলাকার সমস্যা সম্পর্কে তাদের স্বচ্ছ ধারণা থাকে। সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এমাদউল্লাহ শহীদুল ইসলাম শাহীন বলেন যে নির্বাচিত দলগুলোর ইশতেহারের শতভাগ বাস্তবায়ন প্রয়োজন। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে সিলেট থেকে অন্তত তিন চারজন যোগ্য ব্যক্তি মন্ত্রিসভায় স্থান পাবেন যারা তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালনে সক্ষম হবেন।
এ এম/ ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬









