মৌলভীবাজার-৪ আসনে জামানত হারালেন এনসিপি ও জাপাসহ তিন প্রার্থী

মৌলভীবাজার-৪, ১৪ ফেব্রুয়ারি – ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মৌলভীবাজার-৪ বা শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ আসনে ভোটের নির্দিষ্ট সীমা পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় তিন প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। নির্বাচনী আইন অনুযায়ী প্রদত্ত ভোটের আট ভাগের এক ভাগ না পাওয়ায় এই তিন প্রার্থী তাদের জামানত হারিয়েছেন। এই আসনে মোট ছয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন যার মধ্যে তিনজনই জামানত রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ভোট পেতে ব্যর্থ হন। জামানত হারানো প্রার্থীরা হলেন জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপি মনোনীত প্রার্থী প্রীতম দাশ যিনি শাপলা কলি প্রতীকে ৪ হাজার ৫৬৩ ভোট পেয়েছেন।
অন্য দুজন হলেন বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল বা বাসদ মনোনীত প্রার্থী মো. আবুল হাসান যিনি মই প্রতীকে ৯৮১ ভোট পেয়েছেন এবং জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ জরিপ হোসেন যিনি লাঙ্গল প্রতীকে ৯২৪ ভোট পেয়েছেন। কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন যে এই আসনে মোট ভোট পড়েছে ২ লাখ ৭২ হাজার ৯১৬টি। এর মধ্যে বৈধ ভোটের সংখ্যা ২ লাখ ৩৫ হাজার ৬১টি এবং বাতিলকৃত ভোটের সংখ্যা ৩৭ হাজার ৮৫৫টি। নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বা বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরী ১ লাখ ৭০ হাজার ৮৭৭ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় ঐক্যজোট সমর্থিত ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস মনোনীত প্রার্থী শেখ নূরে আলম হামিদী পেয়েছেন ৫০ হাজার ২০৪ ভোট। এছাড়া বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মহসিন মিয়া ৩৪ হাজার ১৪৭ ভোট পেয়েছেন। নির্বাচন কমিশনের বিধি অনুযায়ী কোনো প্রার্থী সংশ্লিষ্ট আসনে প্রদত্ত মোট ভোটের আট ভাগের এক ভাগের কম ভোট পেলে তার জামানত বাজেয়াপ্ত হয়।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে দলীয় সাংগঠনিক শক্তির অভাব এবং প্রার্থীর ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তার ঘাটতি এই জামানত হারানোর পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। নির্বাচনে শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জে গড় ভোট পড়ার হার ছিল প্রায় ৫৫.৯৬ শতাংশ। এছাড়া এই আসনে গণভোটে হ্যাঁ সূচক রায় বিজয়ী হয়েছে যেখানে হ্যাঁ এর পক্ষে ১ লাখ ২৭ হাজার ৪২৮ ভোট এবং না এর পক্ষে ১ লাখ ৭ হাজার ৬৩৩ ভোট পড়েছে।
এ এম/ ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬









