হুমায়ুন ফরীদির ১৪তম মৃত্যুবার্ষিকী: স্মৃতির পাতায় আজও অমলিন কিংবদন্তি

ঢাকা, ১৩ ফেব্রুয়ারি – সময় গড়িয়েছে, পেরিয়েছে দীর্ঘ ১৪টি বছর। তবু বাংলা অভিনয় জগতের কিংবদন্তি হুমায়ুন ফরীদি আজও দর্শকদের হৃদয়ে সজীব। আজ শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি এই মহান অভিনেতার মৃত্যুবার্ষিকী। ২০১২ সালের এই দিনে তিনি চিরবিদায় নিয়ে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান। মঞ্চ, টেলিভিশন ও চলচ্চিত্র—তিন মাধ্যমেই প্রায় তিন দশক ধরে নিজের অভিনয়শৈলীর জাদুতে তিনি মুগ্ধ করে রেখেছিলেন দর্শকদের। বহুমাত্রিক চরিত্রে তার সাবলীল উপস্থিতি তাকে করে তুলেছিল অভিনয়ের এক অনন্য শক্তিমান ব্যক্তিত্বে।
হুমায়ুন ফরীদির বর্ণাঢ্য অভিনয় জীবনের সূচনা হয় মঞ্চ নাটকের মধ্য দিয়ে। আতিকুল হক চৌধুরীর প্রযোজনায় ‘নিখোঁজ সংবাদ’ নাটকের মাধ্যমে তিনি টেলিভিশনে আত্মপ্রকাশ করেন। এরপর ‘সংশপ্তক’, ‘কোথাও কেউ নেই’, ‘সাত আসমানের সিঁড়ি’, ‘একদিন হঠাৎ’, ‘শীতের পাখি’ ও ‘নীল আকাশের সন্ধানে’র মতো অসংখ্য নাটকে তার অভিনয় কালজয়ী হয়ে আছে। বিশেষ করে ‘সংশপ্তক’ নাটকে তার রূপদান করা ‘কানকাটা রমজান’ চরিত্রটি আজও দর্শকের মুখে মুখে ফেরে। মঞ্চেও তার দাপট ছিল অনবদ্য। ‘মুনতাসীর ফ্যান্টাসি’, ‘ফণীমনসা’, ‘শকুন্তলা’, ‘কীত্তনখোলা’ ও ‘কেরামত মঙ্গল’-এর মতো নাটকে তিনি নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রাখেন।
চলচ্চিত্রে তার অভিষেক ঘটে তানভীর মোকাম্মেলের ‘হুলিয়া’ সিনেমার মাধ্যমে। পরবর্তীতে শহীদুল ইসলাম খোকন পরিচালিত ‘সন্ত্রাস’ ছবির মাধ্যমে বাণিজ্যিক সিনেমায় তিনি নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করেন। খলনায়ক হিসেবে তিনি যেমন ছিলেন দুর্দান্ত, তেমনি ইতিবাচক চরিত্রেও ছিলেন সমান স্বচ্ছন্দ। ‘ব্যাচেলর’, ‘শ্যামলছায়া’, ‘জয়যাত্রা’, ‘একাত্তরের যীশু’, ‘মায়ের মর্যাদা’ ও ‘পালাবি কোথায়’-এর মতো চলচ্চিত্রে তার অভিনয় আজও প্রশংসিত। ২০০৪ সালে ‘মাতৃত্ব’ ছবিতে অভিনয়ের জন্য তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি প্রথমে মিনুর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন এবং তাদের কন্যাসন্তান দেবযানি। পরবর্তীতে তিনি অভিনেত্রী সুবর্ণা মুস্তাফার সঙ্গে ঘর বাঁধেন, যা ২০০৮ সালে বিচ্ছেদে গড়ায়। নশ্বর পৃথিবী ছেড়ে চলে গেলেও অভিনয়ের শক্তি ও ব্যক্তিত্বের দীপ্তিতে হুমায়ুন ফরীদি আজও অমর।
এস এম/ ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬









