ভোটের দিন রাজধানীর পাবলিক টয়লেট বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তিতে ভোটাররা

ঢাকা, ১২ ফেব্রুয়ারি – রাজধানীতে ভোটের দিনে অধিকাংশ পাবলিক টয়লেট বন্ধ থাকায় সাধারণ ভোটারদের চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয়েছে। বিশেষ করে নারী, বয়স্ক নাগরিক, ডায়াবেটিস রোগী এবং নির্বাচনের সংবাদ সংগ্রহে আসা বিদেশি সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকরা এ নিয়ে বিড়ম্বনায় পড়েন।
বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই ঢাকার বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে ভোটার, পর্যবেক্ষক, গণমাধ্যমকর্মী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ভিড় লক্ষ্য করা যায়। নির্বাচনের কারণে শহরের মার্কেট ও শপিং মলগুলো বন্ধ ছিল। এর সঙ্গে পাবলিক টয়লেটগুলোও তালাবদ্ধ থাকায় অনেকেই প্রাকৃতিক ডাকে সাড়া দিতে গিয়ে বিপদে পড়েন। সকাল ১০টার দিকে গুলশানের বাসিন্দা নাঈমা হায়দার তার বৃদ্ধ শাশুড়িকে নিয়ে ভোট দিতে আসেন গুলশান মডেল হাইস্কুল এন্ড কলেজ কেন্দ্রে।
ভোট প্রদান শেষে নাঈমার শাশুড়ির জরুরি শৌচাগারের প্রয়োজন হয়। তাৎক্ষণিকভাবে রিকশা নিয়ে তারা গুলশান ডিসিসি মার্কেট সংলগ্ন ডিএনসিসির পাবলিক টয়লেটে যান, কিন্তু সেটি বন্ধ পান। স্থানীয় দোকানদাররা জানান, ভোটের কারণে এটি বন্ধ রাখা হয়েছে। দীর্ঘ ৩৫ বছর ধরে ডায়াবেটিসে ভোগা ওই বৃদ্ধা ততক্ষণে নিজেকে সামলাতে না পেরে কাপড় নষ্ট করে ফেলেন। এ বিষয়ে নাঈমা হায়দার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, তিনি ভোটকেন্দ্রের পাশের দুটি ভবনের নিরাপত্তারক্ষীদের অনুরোধ করেছিলেন, কিন্তু নিরাপত্তার অজুহাতে তারা কাউকে ভেতরে প্রবেশ করতে দেননি।
পরবর্তীতে ডিসিসি মার্কেটের পাশের পাবলিক টয়লেটটিও বন্ধ পাওয়া যায়। মার্কেট বন্ধ থাকলেও ভেতরে একটি টয়লেট খোলা ছিল, যা নারীদের ব্যবহারের অনুপযোগী। ভোটের দিন সিটি করপোরেশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সংস্থার পাবলিক টয়লেট কেন বন্ধ থাকবে, তা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন। উল্লেখ্য, গুলশান মডেল হাই স্কুল এন্ড কলেজ কেন্দ্রে সকাল থেকেই বিদেশি সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতি ছিল, যারা নিজেরাও শৌচাগার সংকটের কারণে অস্বস্তিতে পড়েন।
এস এম/ ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬









