বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

ডুমসডে ক্লক ও পারমাণবিক যুদ্ধের ভীতি: আমেরিকান পপ সংস্কৃতির নেপথ্য গল্প

যুক্তরাষ্ট্র, ১১ ফেব্রুয়ারি – বিশ্বজুড়ে পারমাণবিক যুদ্ধের বিভীষিকা নিয়ে যখনই আলোচনা হয়, তখন আমেরিকান পপ সংস্কৃতির আধিপত্য স্পষ্টভাবে লক্ষ্য করা যায়। পারমাণবিক ধ্বংসযজ্ঞের চিত্রকল্প বা পৌরাণিক রূপকথার অনেকটাই মূলত যুক্তরাষ্ট্রের সৃষ্টি।

১৯৪৭ সালে মার্কিন পারমাণবিক বিজ্ঞানীদের উদ্যোগে ‘ডুমসডে ক্লক’ বা কেয়ামতের ঘড়ির ধারণাটি প্রথম জনসমক্ষে আসে। হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে বোমা হামলার ঠিক পরপরই মানব সভ্যতা ধ্বংসের আর কতটুকু বাকি তা বোঝাতে এই প্রতীকী ঘড়ি তৈরি করা হয়েছিল। মজার বিষয় হলো ঘড়িটি যখন প্রথম চালু হয় তখন রাত বারোটা বাজতে সাত মিনিট বাকি ছিল অথচ সেই সময়ে সোভিয়েত ইউনিয়নের হাতে কোনো পারমাণবিক অস্ত্রই ছিল না। ১৯৪৯ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন যখন তাদের প্রথম পারমাণবিক পরীক্ষা সম্পন্ন করে তখন আমেরিকান বিজ্ঞানীরা এই ঘড়ির কাঁটাকে আরও এগিয়ে দেন।

পরবর্তী সময়ে কিউবান মিসাইল সংকট, ভিয়েতনাম যুদ্ধ এবং ভারত ও চীনের পারমাণবিক শক্তি হিসেবে উত্থানের সময়গুলোতে ঘড়ির কাঁটা বারোটার খুব কাছাকাছি অবস্থান করেছে। ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর কিছুটা স্বস্তি দেখা দিলেও ২০১৮ সাল থেকে এই ঘড়ির কাঁটা মধ্যরাত থেকে মাত্র ১০০ থেকে ৯০ সেকেন্ড দূরত্বে অবস্থান করছে। বিশ্লেষকদের মতে এটি বর্তমান সংবাদমাধ্যমগুলোর জন্য অত্যন্ত লোভনীয় একটি শিরোনাম মাত্র যা সাধারণ মানুষের আবেগকে পুঁজি করে গড়ে উঠেছে।

আমেরিকান চলচ্চিত্রকার স্ট্যানলি কুবরিকের বিখ্যাত সিনেমা ‘ডক্টর স্ট্রেঞ্জলাভ’-এ দেখানো হয়েছিল কীভাবে যান্ত্রিক ত্রুটি ও মানুষের ভুল সিদ্ধান্তে বিশ্ব ধ্বংস হতে পারে। তবে বাস্তবে ডুমসডে ক্লকের কাঁটা নাড়াচাড়া করা বিশেষজ্ঞদের প্রচারের আলোয় আসার কৌশল হিসেবেই অনেকে দেখেন। রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ফ্রান্সিস ফুকুয়ামা একসময় ইতিহাসের সমাপ্তির কথা বললেও সংঘাত ও রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্য দিয়ে বিশ্ব নতুন চক্রে আবর্তিত হচ্ছে। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক সংঘাত বাস্তবতা হলেও পৃথিবী ধ্বংসের মতো অনিবার্য পরিস্থিতি এখনো তৈরি হয়নি বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।

এস এম/ ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language