কক্সবাজার-৪ আসন সেন্টমার্টিনসহ ১১৫ কেন্দ্রে পৌঁছাচ্ছে ব্যালট পেপার, জোরদার নিরাপত্তা

কক্সবাজার-৪, ১১ ফেব্রুয়ারি – ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কক্সবাজার-৪ বা উখিয়া ও টেকনাফ আসনের সেন্টমার্টিন দ্বীপসহ ১১৫টি ভোটকেন্দ্রে ব্যালট পেপার এবং প্রয়োজনীয় নির্বাচনী সরঞ্জাম পাঠানো শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল থেকে উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই কার্যক্রম শুরু হয়। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে যে প্রথম ধাপে কোস্টগার্ডের কড়া নিরাপত্তায় সেন্টমার্টিন দ্বীপের কেন্দ্রগুলোতে ব্যালট পেপার ও সরঞ্জাম পাঠানো হয়।
দ্বীপ এলাকায় কোস্টগার্ডের পাশাপাশি নৌবাহিনী এবং বিজিবি ও পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। একই সঙ্গে পর্যায়ক্রমে উখিয়া ও টেকনাফের অন্যান্য কেন্দ্রেও ব্যালট ও সরঞ্জাম পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রিসাইডিং ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মাধ্যমে পুলিশ ও আনসার বাহিনীর নিরাপত্তায় এসব সরঞ্জাম পাঠানো হচ্ছে। টেকনাফ উপজেলা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইমামুল হাফিজ নাদিম জানিয়েছেন যে কঠোর নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মাধ্যমে ব্যালট পেপার কেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু এবং শান্তিপূর্ণ রাখতে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে এবং নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা মেনে নির্ধারিত বিধি অনুসরণ করেই এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলার চেষ্টা বরদাশত করা হবে না বলে প্রশাসন সতর্ক করেছে। জানা গেছে যে ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য এই নির্বাচনে কক্সবাজার-৪ আসনের ১১টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার কেন্দ্রগুলোতে আগের দিন ব্যালট পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।
এই আসনে পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন বিএনপির প্রার্থী চারবারের সাবেক সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী এবং জামায়াতের প্রার্থী নুর আহমদ আনোয়ারী। এ ছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মাওলানা নুরুল হক এবং জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সাইফুদ্দিন খালেদ প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন। তবে মাঠের পরিস্থিতিতে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা বিএনপি ও জামায়াত প্রার্থীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে বলে স্থানীয়দের ধারণা। নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে উখিয়া উপজেলায় ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের সংখ্যা তুলনামূলক বেশি। সেখানে ৫৪টি কেন্দ্রের মধ্যে ৩২টি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং টেকনাফে ৬১টি কেন্দ্রের মধ্যে ২৭টি ঝুঁকিপূর্ণ। উভয় উপজেলা মিলিয়ে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৭১ হাজার ৮১৯ জন।
এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৮৯ হাজার ৬৮২ জন এবং নারী ১ লাখ ৮২ হাজার ৫৫১ জন। উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিফাত আসমা বলেছেন সকাল থেকেই কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে দিয়ে নির্বাচনী সরঞ্জাম কেন্দ্রে পাঠানো হচ্ছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী মোতায়েন থাকবে। টেকনাফ মডেল থানার ওসি সাইফুল ইসলাম জানান বেলা ১১টা থেকে বিভিন্ন কেন্দ্রে সরঞ্জাম পাঠানো শুরু হয়েছে। নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে পুলিশসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রয়োজনীয় দায়িত্ব পালন করবে।
এ এম/ ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬









