প্রধান উপদেষ্টার সম্পদ সাড়ে ১৫ কোটি টাকার বেশি

ঢাকা, ১১ ফেব্রুয়ারি – এক বছরে প্রায় ১ কোটি ২৩ লাখ টাকা বেড়ে ২০২৫ সালের জুনে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের মোট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৫ কোটি ৬২ লাখ ৮৮ হাজার ৮০৬ টাকা।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টাসহ অন্তর্বর্তী সরকারের সব উপদেষ্টার সম্পদের বিবরণী প্রকাশ করে।
করবর্ষ অনুযায়ী ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত উপদেষ্টা ও তাদের স্ত্রীদের মোট সম্পদের তথ্য এতে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত তাদের সম্পদের পরিমাণও উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রকাশিত বিবরণীতে তাদের আর্থিক সম্পদ, আর্থিক বর্হিভূত বা নন-ফাইন্যান্সিয়াল সম্পদ, বিদেশে থাকা সম্পদ এবং ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক দায়ের তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।
বিবরণী অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৩০ জুন মুহাম্মদ ইউনূসের মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১৪ কোটি ৩৯ লাখ ৩৯ হাজার ৬৭৭ টাকা। এক বছর পর ২০২৫ সালের ৩০ জুনে তা বেড়ে হয় ১৫ কোটি ৬২ লাখ ৮৮ হাজার ৮০৬ টাকা।
তথ্যে বলা হয়েছে, প্রধান উপদেষ্টার দেশের বাইরে সম্পদ থাকলেও তার কোনো ব্যক্তিগত বা ব্যবসায়িক দায় নেই।
এক বছরের ব্যবধানে তার স্ত্রী আফরোজী ইউনূসের সম্পদও বেড়েছে ১৫ লাখ ৬৩ হাজার ৭৮৬ টাকা।
নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৩০ জুন আফরোজী ইউনূসের মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ২ কোটি ১১ লাখ ৯৯ হাজার ২৭৪ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুনে তা বেড়ে দাঁড়ায় ২ কোটি ২৭ লাখ ৬৩ হাজার ৬০ টাকা।
দীর্ঘদিন ধরে সরকারে থাকা ব্যক্তিদের সম্পদের হিসাব প্রকাশের দাবি জানিয়ে আসছিল নাগরিক সমাজসহ বিভিন্ন মহল।
ছাত্র-জনতার আন্দোলনে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেয়। এরপর উপদেষ্টাদের আয় ও সম্পদের হিসাব প্রকাশের বিষয়টি সামনে আসে।
এরপর অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের আয় ও সম্পদ বিবরণী জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া ঠিক করে একটি খসড়া নীতিমালার অনুমোদন দেয়।
ওই নীতিমালা অনুযায়ী, প্রতিবছর আয়কর জমা দেওয়ার সর্বশেষ তারিখের পরবর্তী ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে প্রধান উপদেষ্টার কাছে আয় ও সম্পদ বিবরণী জমা দিতে হবে।
এতদিন প্রধান উপদেষ্টাসহ অন্য উপদেষ্টারা তাদের আয় ও সম্পদের বিবরণী প্রকাশ করেননি।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটের দুই দিন আগে এবারই প্রথম মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ তাদের সম্পদের বিবরণীর তথ্য প্রকাশ করল।
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৩০ জুন প্রধান উপদেষ্টার আর্থিক সম্পদের পরিমাণ ছিল ১০ কোটি ১৮ লাখ ৭১ হাজার ৪০০ টাকা। এক বছর পর ২০২৫ সালের ৩০ জুনে তা বেড়ে হয় ১২ কোটি ৬৫ লাখ ৫৮ হাজার ৮০৩ টাকা।
আর্থিক বর্হিভূত সম্পদের ক্ষেত্রে ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ২৫ লাখ ৬০ হাজার টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুনে তা বেড়ে দাঁড়ায় ২ কোটি ৯৫ লাখ ৬০ হাজার টাকা।
প্রধান উপদেষ্টার নামে বাংলাদেশে থাকা সম্পদের পাশাপাশি বিদেশে থাকা সম্পদের হিসাবও আলাদাভাবে প্রকাশ করা হয়েছে।
এতে দেখা যায়, ২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে তার বিদেশে থাকা সম্পদের পরিমাণ বেড়ে হয়েছে ৬৪ লাখ ৭৩ হাজার ৪১৪ টাকা। ২০২৪ সালে এই অঙ্ক ছিল ৬১ লাখ ৭৫ হাজার ৭৪০ টাকা।
অন্যদিকে, প্রধান উপদেষ্টার স্ত্রী আফরোজী ইউনূসের নামে বিদেশে থাকা কোনো সম্পদের তথ্য প্রকাশিত নথিতে দেখানো হয়নি। একইভাবে তার কোনো ব্যক্তিগত বা ব্যবসায়িক দায়ের তথ্যও দেওয়া হয়নি।
তালিকায় এই সময়ে প্রধান উপদেষ্টার কোনো ব্যক্তিগত বা ব্যবসায়িক দায় দেখানো হয়নি। অর্থাৎ দায় অপরিবর্তিত থাকায় সম্পদ বৃদ্ধির পুরো প্রভাব সরাসরি মোট সম্পদের হিসাবেই যুক্ত হয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রকাশিত নথির ‘মন্তব্য’ অংশে প্রধান উপদেষ্টার সম্পদ বৃদ্ধির কারণও উল্লেখ করা হয়েছে।
সেখানে বলা হয়েছে, সঞ্চয়পত্র নগদায়ন, সঞ্চয়ী ও মেয়াদী আমানত বৃদ্ধি, উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া শেয়ারসহ বিভিন্ন কারণে তার মোট সম্পদ বেড়েছে।
তালিকা অনুযায়ী, ২০২৪ ও ২০২৫ সালের হিসাবে প্রধান উপদেষ্টার সম্পদের ক্ষেত্রে কোনো নতুন দায় যুক্ত হয়নি। ফলে আয় ও সম্পদের যে বৃদ্ধি হয়েছে, তা দায় সমন্বয়ের বাইরে থেকেই মোট সম্পদের হিসাবে যোগ হয়েছে।
এনএন/ ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬









