মধ্যপ্রাচ্য

পরাশক্তির সামনে ইরান কেন এখনো অপরাজেয়?

মধ্যপ্রাচ্য, ১০ ফেব্রুয়ারি – মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা বাজার মধ্যেই বিশ্বজুড়ে প্রশ্ন উঠছে, দশকের পর দশক অবরোধ সত্ত্বেও ইরান কীভাবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মতো পরাশক্তির সামনে এখনো টিকে আছে। ২০২৫ সালের জুনের সংক্ষিপ্ত যুদ্ধে ইসরায়েল ইরানের আকাশসীমায় আধিপত্য দেখালেও তেহরানকে পুরোপুরি বশ করতে পারেনি।

পশ্চিমা সমরবিশারদরাই এখন ইরানের শক্তিমত্তা নিয়ে হুঁশিয়ারি দিচ্ছেন। ইসরায়েল বর্তমান ইরানকে দুর্বল ভাবলেও ওয়াশিংটনের থিঙ্কট্যাঙ্কগুলো এই ধারণাকে ইরাক যুদ্ধের চেয়েও ভয়াবহ পরিণতির পূর্বাভাস হিসেবে দেখছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের ভৌগোলিক অবস্থান তাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। হরমুজ প্রণালীর ওপর নিয়ন্ত্রণ থাকায় ইরান চাইলেই ডুবো মাইন ও দ্রুতগামী বোট দিয়ে বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহ অচল করে দিতে পারে। আকাশপথে কিছুটা দুর্বলতা থাকলেও ইরানের মিসাইল ও ড্রোন ভাণ্ডার বর্তমানে অত্যন্ত সমৃদ্ধ ও বৈচিত্র্যপূর্ণ। তাদের হাতে থাকা হাজার হাজার ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ মিসাইল দুই থেকে আড়াই হাজার কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁতভাবে আঘাত হানতে সক্ষম।

খাইবার শেকান ও ফাত্তাহর মতো হাইপারসনিক মিসাইল যেকোনো রাডার ফাঁকি দিতে পারে। এছাড়া পারস্য উপসাগরে ইরানের ছোট ও দ্রুতগামী সাবমেরিন এবং ড্রোন বোটের ঝাঁক মার্কিন রণতরীর জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। সামরিক বিশ্লেষক স্কট রিটার সতর্ক করেছেন যে, ইরান পাল্টা হামলা চালালে ইসরায়েল বসবাসের অযোগ্য হয়ে উঠতে পারে। মাটির নিচে সুরক্ষিত বাঙ্কার এবং নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি সমরাস্ত্র ইরানকে এক অপ্রতিসম যুদ্ধের কেন্দ্রে পরিণত করেছে। এই ভারসাম্যপূর্ণ ভয়ই ইরানকে এখনো সরাসরি বিদেশি আগ্রাসন থেকে রক্ষা করে চলেছে।

এস এম/ ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language