নির্বাচন: ঢাকার ১৬১৪টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ, সারা দেশে থাকছে কঠোর নিরাপত্তা

বাংলাদেশ, ১০ ফেব্রুয়ারি – আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে সারা দেশের ৪২ হাজারেরও বেশি ভোটকেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে। আইন শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী এর মধ্যে ৪০ শতাংশের বেশি কেন্দ্রকে নানা কারণে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সারা দেশের তুলনায় ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন এলাকার ১৫টি আসনে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের সংখ্যা আনুপাতিক হারে বেশি বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। পুলিশের পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া তালিকা অনুযায়ী ঢাকা সিটি করপোরেশন এলাকার ২ হাজার ১৩১টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১ হাজার ৬১৪টি ভোটকেন্দ্রকেই ঝুঁকিপূর্ণ বা গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সাধারণত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ভোটকেন্দ্রগুলোর ভৌগলিক অবস্থান এবং অতীত সহিংসতার তথ্যসহ নানা বিষয় বিবেচনায় রেখে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের এই তালিকা তৈরি করা হয়।
গত শনিবার সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে ঢাকা ১৪, ১৬ ও ১৮ আসনের সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও নির্বাচনী প্রস্তুতি নিয়ে একটি ব্রিফিংয়ে ঢাকার দুটি আসনকে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করার কথা জানানো হয়। নির্বাচন কমিশন ও আইন শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী নির্বাচনের আগে কয়েক দফায় বৈঠক করে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেছে। পুলিশের ভাষায় ঝুঁকিপূর্ণ এই কেন্দ্রগুলোকে গুরুত্বপূর্ণ ও অধিক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে অভিহিত করা হয়। নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ জানিয়েছেন যে রিটার্নিং কর্মকর্তা যেসব কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ মনে করবেন সেখানে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ইসির পক্ষ থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে চিহ্নিত ঝুঁকিপূর্ণ বা গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে বাড়তি পুলিশ সদস্য মোতায়েনের পাশাপাশি সিসি ক্যামেরা ও বডিওর্ন ক্যামেরার নজরদারি থাকবে। এবারের নির্বাচনে একই দিনে সারা দেশের ২৯৯টি আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে কারণ একজন প্রার্থীর মৃত্যুতে শেরপুর ৩ আসনের ভোট গত সপ্তাহে স্থগিত করা হয়েছে। সাধারণত যেসব কেন্দ্রে অতীতে সহিংসতা বা ব্যালট ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে অথবা যেসব কেন্দ্র পার্বত্য অঞ্চল বা দুর্গম চরাঞ্চলে অবস্থিত সেগুলোকে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় রাখা হয়। এছাড়া প্রভাবশালী প্রার্থীদের বাড়ির কাছের কেন্দ্র বা দুর্বল অবকাঠামোর কেন্দ্রগুলোকেও এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
ঢাকার আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ইউনুচ আলী জানান যে সব দিক বিবেচনায় নিয়েই নিরাপত্তা ছক সাজানো হয়েছে। ঢাকা জেলায় সিটি করপোরেশন এলাকার বাইরে থাকা ৫টি আসনে ৮৯৩টি কেন্দ্রের মধ্যে ৬৮টি অধিক গুরুত্বপূর্ণ এবং ৩২টি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে ধরা হয়েছে। তবে সিটি করপোরেশন এলাকার ১৫টি আসনেই ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের আধিক্য বেশি। এর মধ্যে ঢাকা ১৮ আসনে ২১৮টি কেন্দ্রের মধ্যে ১৮৯টিই ঝুঁকিপূর্ণ যা তালিকার শীর্ষে রয়েছে। এছাড়া ঢাকা ৪ থেকে ঢাকা ১৭ পর্যন্ত প্রতিটি আসনেই উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে যে এসব কেন্দ্রে অতিরিক্ত ফোর্সের পাশাপাশি সিসিটিভি স্থাপন করা হবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরিপত্র অনুযায়ী সাধারণ কেন্দ্রে দুজন অস্ত্রধারী পুলিশসহ আনসার ও গ্রাম পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। তবে মেট্রোপলিটন এলাকার বাইরের ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে তিন থেকে চারজন এবং মেট্রোপলিটন এলাকার ভেতরের ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে চারজন করে অস্ত্রধারী পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবেন।
বাংলাদেশ পুলিশের মুখপাত্র এআইজি এ এইচ এম শাহাদাত হোসেন জানান যে নির্বাচনে সারা দেশে ১ লাখ ৫৭ হাজার পুলিশ সদস্য সরাসরি কেন্দ্রের নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকবেন যা মোট পুলিশ বাহিনীর ৮৮ শতাংশ। তিনি আরও জানান যে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রগুলোতে ২৫ হাজারের বেশি বডিওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার করা হবে যার মধ্যে ১৫ হাজার অনলাইন ও ১০ হাজার অফলাইন প্রযুক্তিতে কাজ করবে। এছাড়া প্রথমবারের মতো নির্বাচনী নিরাপত্তায় ১ লাখেরও বেশি সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
এ এম/ ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬









