এমপিও অনুমোদন আপাতত স্থগিত, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে পরবর্তী সরকার

ঢাকা, ১০ ফেব্রুয়ারি – দেশের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর এমপিওভুক্তির আবেদন চলমান থাকলেও, এমপিও অনুমোদন প্রক্রিয়া আপাতত স্থগিত রয়েছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এই বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেবে না। তবে পরবর্তী সরকারই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলিকে এমপিওভুক্ত করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা খালিদ মাহমুদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, “এমপিও কার্যক্রম আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় এমপিও অনুমোদন সংক্রান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না।”
এদিকে, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর (স্কুল ও কলেজ) জনবল কাঠামো এবং এমপিও নীতিমালা-২০২৫ অনুযায়ী এমপিওভুক্তির জন্য আবেদন আহ্বান করা হয়েছিল। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মোট ৩ হাজার ৬১৫টি আবেদন এসেছে। এর মধ্যে নিম্নমাধ্যমিক পর্যায়ের ৮৫৯টি, মাধ্যমিক পর্যায়ের ১ হাজার ১৭০টি, উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের ৬৮৭টি, স্নাতক (পাস) পর্যায়ের ৪৪০টি, স্নাতক (সম্মান) পর্যায়ের ৪১৪টি এবং স্নাতকোত্তর পর্যায়ের ৪৫টি প্রতিষ্ঠান অন্তর্ভুক্ত।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নীতিমালায় নির্ধারিত মানদণ্ড অনুযায়ী প্রাপ্ত আবেদনগুলো মূল্যায়ন করা হচ্ছে। এমপিওভুক্তির যোগ্যতা, আঞ্চলিক সাম্যসহ বিভিন্ন আনুষঙ্গিক বিষয় বিবেচনায় নিয়ে অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা হচ্ছে। স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারের মাধ্যমে নির্ধারিত ক্রাইটেরিয়া অনুযায়ী প্রাপ্ত গ্রেডিংয়ে প্রথম পর্যায়ে বিভিন্ন ক্যাটাগরির ১ হাজার ৭১৯টি প্রতিষ্ঠানের আবেদন বিবেচনাযোগ্য বলে প্রতীয়মান হয়েছে।
এসব প্রতিষ্ঠানের সম্ভাব্য আর্থিক সংশ্লেষ নিরূপণ করে অর্থ বিভাগের সম্মতি চেয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। তবে প্রথম পর্যায়ে বিবেচনাযোগ্য প্রতিষ্ঠান নির্ধারণের পরেও এখনো প্রতিষ্ঠানভিত্তিক বিস্তারিত যাচাই-বাছাই চলমান রয়েছে।
আবেদনের সঙ্গে জমা দেওয়া কাগজপত্র ভূমি মন্ত্রণালয়, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সংরক্ষিত তথ্য ও অনলাইন ডাটাবেসের সঙ্গে মিলিয়ে যাচাই করা হচ্ছে। প্রয়োজনে মাঠপর্যায়ে সরেজমিনে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারের মাধ্যমে মূল্যায়ন, সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর অনলাইন তথ্য যাচাই এবং প্রয়োজনে মাঠপর্যায়ের পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে স্বচ্ছ ও বস্তুনিষ্ঠভাবে এমপিওভুক্তির তালিকা চূড়ান্ত করা হবে। বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্তিকর বা অসত্য তথ্য বা সংবাদ প্রচার না করার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, এমপিও অনুমোদনের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেনের সুযোগ নেই। এমপিও অনুমোদনের নামে অনৈতিক আর্থিক লেনদেন বা ব্যক্তিগত যোগাযোগের চেষ্টা না করার জন্যও অনুরোধ জানানো হয়েছে। এ ধরনের কোনো অভিযোগ বা তথ্য থাকলে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে (০১৩৩৯-৭৭৪৫২৮) জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এনএন/ ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬









