দক্ষিণ এশিয়া

আরব সাগর থেকে ইরানের তেলবাহী তিনটি ট্যাংকার জব্দ করল ভারত

নয়াদিল্লি, ৯ ফেব্রুয়ারি – ইরানের তথাকথিত ‘শ্যাডো ফ্লিট’-এর সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে আরব সাগর থেকে তিনটি তেলবাহী ট্যাংকার জব্দ করেছে ভারত। ভারতীয় কোস্ট গার্ড জানায়, আন্তর্জাতিক তেল পাচারচক্রের বিরুদ্ধে সমন্বিত অভিযানের অংশ হিসেবে মুম্বাই উপকূল থেকে প্রায় ১০০ নটিক্যাল মাইল দূরে এসব জাহাজ আটক করা হয়েছে।

ভারতীয় কোস্ট গার্ড এক বিবৃতিতে জানায়, গত শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) ওই তিনটি জাহাজ শনাক্ত করা হয়। সংস্থাটির দাবি, সংঘাতপূর্ণ অঞ্চল থেকে কম দামে তেল সংগ্রহ করে আন্তর্জাতিক জলসীমায় মাঝসমুদ্রে স্থানান্তরের মাধ্যমে বিভিন্ন মোটর ট্যাংকারে সরবরাহ করছিল এই চক্র। এতে উপকূলবর্তী দেশগুলোর প্রাপ্য শুল্ক ফাঁকি দেওয়া হচ্ছিল।

কোস্ট গার্ড আরও জানায়, দীর্ঘ সময় ধরে তল্লাশি, ইলেকট্রনিক তথ্য যাচাই এবং নাবিকদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে ওই নেটওয়ার্কের কার্যক্রম ও একটি বৈশ্বিক পরিচালনাকারী চক্রের সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে। জাহাজগুলোকে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার জন্য মুম্বাই বন্দরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

জাহাজ ট্র্যাকিং সংস্থা ট্যাংকারট্র্যাকার্সের তথ্য অনুযায়ী, জব্দ হওয়া তিনটি ট্যাংকার হলো ইরানের পতাকাবাহী ‘স্টেলার রুবি’, ‘চিলটার্ন’ ও ‘অ্যাসফল্ট স্টার’। ইরানি সংবাদমাধ্যম ইরান ইন্টারন্যাশনালও একই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

জ্বালানি বাণিজ্য পর্যবেক্ষণকারী প্ল্যাটফর্ম কেপলারের তথ্য বলছে, এই তিনটি ট্যাংকারই ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের রাজস্ব দপ্তরের অফিস অব ফরেন অ্যাসেটস কন্ট্রোলের (ওএফএসি) নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়েছিল।

যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত নথিতে উল্লেখ করা হয়, ইরানের তেল রপ্তানির ওপর আরোপিত বিধিনিষেধ এড়াতে ব্যবহৃত একটি ‘শ্যাডো ফ্লিট’-এর অংশ হিসেবে এসব ট্যাংকারকে কালো তালিকাভুক্ত করা হয়।

এদিকে, ওমানে পরোক্ষ আলোচনা শেষ হওয়ার পর শনিবার ইরানের তেল রপ্তানি ঠেকাতে নতুন নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেছে ওয়াশিংটন। এতে তুরস্ক, ভারত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের পতাকাবাহী অন্তত ১৪টি জাহাজকে লক্ষ্য করা হয়েছে।

এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মধ্যে সাম্প্রতিক বাণিজ্য চুক্তিও আলোচনায় এসেছে। গত শনিবার দুই দেশের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরের পর ওয়াশিংটন ভারতের ওপর আরোপিত অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক প্রত্যাহার করে নেয়। নয়াদিল্লি রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ করবে এবং ভারতে মার্কিন পণ্যের ওপর শুল্ক প্রত্যাহার করবে ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে পণ্য আমদানি বাড়াবে— এমন আশ্বাসের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এর আগে জানুয়ারিতে ট্রুথ সোশালে দেওয়া এক পোস্টে ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দেন, ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করা যেকোনো দেশের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্যে ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে।

অন্যদিকে, চলতি মাসের শুরুতে ভারতের ঘোষিত ২০২৬ অর্থবছরের কেন্দ্রীয় বাজেটে ইরানের চাবাহার বন্দর প্রকল্পে কোনো বরাদ্দ রাখা হয়নি। এর আগে কয়েক বছর ধরে এই প্রকল্পে প্রতি বছর ১০০ কোটি রুপি বরাদ্দ দিত নয়াদিল্লি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের চাপের কারণেই চাবাহার প্রকল্পে ভারত অর্থায়ন বন্ধ করেছে।

এনএন/ ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language