উত্তর আমেরিকা

ট্রাম্পের নতুন নির্দেশ: ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য করা দেশগুলোতে শুল্ক আরোপ হতে পারে

ওয়াশিংটন, ৭ ফেব্রুয়ারি – মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার এক নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করার পর বলেছেন, তিনি ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য করা দেশগুলোর ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করতে পারেন। ওই আদেশে কত শতাংশ হারে শুল্ক আরোপ করা হবে তা উল্লেখ করা হয়নি, তবে উদাহরণ হিসেবে ২৫ শতাংশ শুল্কের কথা বলা হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, ইরান থেকে সরাসরি বা পরোক্ষভাবে কোনো পণ্য বা সেবা ক্রয়, আমদানি বা অন্য কোনোভাবে সংগ্রহ করা হলে—যেকোনো দেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি করা পণ্যের ওপর এই শুল্ক প্রযোজ্য হবে।

নির্বাহী আদেশটির বিষয়ে ট্রাম্প সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি। তবে শুক্রবার রাতে এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি আবারও বলেছেন, ইরানের হাতে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র থাকতে পারবে না।

এই ঘটনা এমন সময়ে ঘটে যখন ওমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সিনিয়র কর্মকর্তারা আলোচনা করছিলেন। এর আগে কয়েক সপ্তাহ ধরে উভয় পক্ষ থেকে পাল্টাপাল্টি হুমকি আসছিল।

চলতি বছরের শুরুতে নিজের সামাজিক মাধ্যমে ট্রুথে ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য করা দেশগুলোর ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছিলেন। ১২ জানুয়ারি তিনি লিখেছিলেন, এটি অবিলম্বে কার্যকর হবে এবং ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করা যেকোনো দেশের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করবে। তবে তখন বিস্তারিত কিভাবে কার্যকর হবে তা বলা হয়নি। ইরানের প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদার চীন, এরপর আছে ইরাক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, তুরস্ক ও ভারত।

হোয়াইট হাউজ জানিয়েছে, ইরানকে ঘিরে জাতীয় জরুরি পরিস্থিতির বিষয়টিই সর্বশেষ নির্বাহী আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে পরিস্থিতি পরিবর্তিত হলে প্রেসিডেন্ট প্রয়োজনে আদেশে সংশোধন আনতে পারেন। এতে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ইরানকে পারমাণবিক সক্ষমতা অর্জনের চেষ্টা, সন্ত্রাসবাদের সমর্থন, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির জন্য দায়ী করছেন। এসব কর্মকাণ্ড যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা, মিত্র দেশগুলো ও স্বার্থের জন্য হুমকি তৈরি করছে।

ইরানের দিক থেকে এখনো এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য আসেনি। তবে শুক্রবার থেকেই ওমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। গত জুনে ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের বোমা বর্ষণের পর এটিই উভয় পক্ষের কর্মকর্তাদের নিয়ে প্রথমবারের মতো আলোচনা।

বৈঠকে ইরানের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। অন্যদিকে মার্কিন দলের নেতৃত্বে ছিলেন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা জেয়ার্ড কুশনার।

এয়ারফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, শুক্রবারের আলোচনা খুবই ভালো হয়েছে এবং ইরান সমঝোতায় পৌঁছাতে আগ্রহী বলে মনে হচ্ছে। তিনি বলেন, তারা যদি চুক্তি না করে, তবে তার পরিণতি খুব খারাপ হবে। একই সঙ্গে তিনি জানান, আগামী সপ্তাহে আরেকটি বৈঠক হবে। ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আলবুসাইদি এই আলোচনায় মধ্যস্থতা করছেন। তিনি জানিয়েছেন, এই বৈঠক ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের চিন্তাভাবনা ও সম্ভাব্য অগ্রগতির ক্ষেত্রগুলো চিহ্নিত করতে সাহায্য করবে।

সামাজিক মাধ্যমে এক্সে দেওয়া পোস্টে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এই আলোচনাকে ‘একটি সুন্দর শুরু’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আলোচনায় ইতিবাচক পরিবেশ বিরাজ করছিল। তিনি জানিয়েছেন, আলোচনায় অংশ নেওয়া কর্মকর্তারা এখন নিজ দেশের রাজধানীতে ফিরে যাচ্ছেন।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা দুই দেশের মধ্যে সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি করেছে। ট্রাম্প বুধবারই বলেন, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলি খামেনিকে ‘খুবই চিন্তিত’ হওয়া উচিত। তিনি বলেন, ইরান পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে সমঝোতায় না এলে মধ্যপ্রাচ্যের দেশটিতে হামলার প্রস্তুতি নেবেন।

ইরান বরাবরই বলছে, দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ এবং যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা যে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির অভিযোগ করেছে, তা তারা প্রত্যাখ্যান করে আসছে।

যুক্তরাষ্ট্র ওই অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে। গত মাসে ইরানে বড় ধরনের সরকারবিরোধী বিক্ষোভে ইরানের দমন-পীড়নের প্রতিক্রিয়ায় সেখানে বড় নৌবহর পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মানবাধিকার সংগঠনগুলো জানিয়েছে, বিক্ষোভ দমন অভিযানে কয়েক হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। তবে ইন্টারনেটে বিধিনিষেধ থাকায় প্রকৃত মৃত্যুর সংখ্যা এখনও পরিষ্কার নয়।

এনএন/ ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language