নির্বাচন ও নতুন বন্দোবস্ত: বিদেশি পর্যবেক্ষণ ও সেনাবাহিনীর ভূমিকা

ঢাকা, ৬ ফেব্রুয়ারি – জনগণকে দেশের মালিকানা ফিরিয়ে দিতে হলে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। আসন্ন এই নির্বাচনকে কেবল ক্ষমতার পালাবদল হিসেবে নয়, বরং রাষ্ট্রকাঠামোর আমূল সংস্কার বা নতুন বন্দোবস্তের সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিগত সময়ে নির্বাচন ব্যবস্থা ও ভোটাধিকারের যে সংকট তৈরি হয়েছিল, তা কাটিয়ে উঠতে এবারের নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্লেষকদের মতে, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার অধীনে অনুষ্ঠিত ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১ ও ২০০৮ সালের নির্বাচনগুলোই বাংলাদেশের ইতিহাসে গ্রহণযোগ্যতার মাপকাঠি হিসেবে বিবেচিত হয়। পরবর্তী সময়ে ২০১১ সালে এই ব্যবস্থা বাতিলের মধ্য দিয়ে যে রাজনৈতিক ও নির্বাচনী সংকট তৈরি হয়েছিল, তা থেকে উত্তরণের জন্য এবারের নির্বাচনে ভোটারদের সচেতনতা জরুরি।
গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় জনগণই রাষ্ট্রের প্রকৃত মালিক এবং নির্বাচনের মাধ্যমেই তারা সেই ক্ষমতার প্রয়োগ ঘটায়। এবার নির্বাচনের দিকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টিও নজিরবিহীন। ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতি ও ব্যালট পেপারের ব্যবস্থাপনা সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন। নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র নিজস্ব উদ্যোগে এবারের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করবে। গত ১২ জানুয়ারি ঢাকায় আগমনের পর থেকেই মার্কিন রাষ্ট্রদূত বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের সঙ্গে বৈঠক অব্যাহত রেখেছেন।
কেবল যুক্তরাষ্ট্র নয়, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, চীন এবং এশিয়ার বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরাও সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে তৎপর রয়েছেন। ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন ইতিমধ্যেই জেলা পর্যায়ে তাদের কার্যক্রম শুরু করেছে। নির্বাচনের পাশাপাশি অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত আর্থিক ব্যবস্থার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। ব্যাংক ও আর্থিক খাতে সুশাসন নিশ্চিত করা এবং ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ নতুন বন্দোবস্তের অংশ হতে হবে। এদিকে, সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান দেশকে গণতন্ত্রায়ণে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সেনাবাহিনীর অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন। ২০২৪ সালে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে সেনাবাহিনী একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীজন হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে এবং নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে নির্বাচিত সরকারের কাছে শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তরের বিষয়ে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
এসএএস/ ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬









