জাতীয়

চট্টগ্রাম বন্দরে এনসিটি চুক্তি: আদালতের নিষেধাজ্ঞার পরও গোপনে প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করার অভিযোগ

নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল, ৫ ফেব্রুয়ারি – আসন্ন সংসদ নির্বাচনের পূর্বেই বিদেশি প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল বা এনসিটি পরিচালনার চুক্তি সম্পন্ন করতে তোড়জোড় চলছে।

সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব বা পিপিপির আওতায় জিটুজি ভিত্তিতে এই চুক্তিটি হতে যাচ্ছে, তবে সরকার এই প্রক্রিয়ার অগ্রগতি সম্পর্কে প্রকাশ্যে কোনো তথ্য জানাচ্ছে না। এ বিষয়ে একটি রিট খারিজ করে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে করা লিভ টু আপিল শুনানির জন্য আগামী সোমবার দিন ধার্য করেছেন আপিল বিভাগ। এর আগে কোনো ধরণের চুক্তি না করার জন্য আদালত নির্দেশনা দিয়েছিলেন। আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি ফারাহ মাহবুব গত মঙ্গলবার এই আদেশ প্রদান করেন।

আদালতের এমন নির্দেশনার পরও চুক্তির প্রক্রিয়াটি গোপনে চূড়ান্ত করা হচ্ছে বলে দাবি করেছেন চট্টগ্রাম বন্দরের শ্রমিক ও কর্মচারীরা। এনসিটি বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয়েছিল আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর সেই প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হলে শ্রমিক ও কর্মচারীরা আন্দোলনে নামেন। শুরুতে কর্মসূচি মিছিল ও সমাবেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও পরে তা কঠোর আন্দোলনে রূপ নেয়।

বন্দরে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল, গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি এবং শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ বা স্কপ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে। এনসিটি চুক্তির প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছানোর খবরে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করেছে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ। আন্দোলন দমানোর চেষ্টায় বন্দরের ১৫ জন কর্মচারীকে মোংলা ও পায়রা বন্দরে বদলি করে নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়। তবে এই গণবদলির পর শ্রমিকরা আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করেন। চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক ইব্রাহিম খোকন জানান, চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং টার্মিনাল নির্মাণ ও আধুনিকায়নে বন্দর কর্তৃপক্ষ প্রায় ২৮ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করেছে।

বর্তমানে নৌবাহিনীর প্রতিষ্ঠান চিটাগং ড্রাইডক লিমিটেড এটি দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনা করছে। লাভজনক ও গুরুত্বপূর্ণ এই টার্মিনাল বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দেওয়ার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। আন্দোলনের আরেক সমন্বয়ক হুমায়ুন কবির অভিযোগ করেন, টার্মিনালটি ১৫ বছরের জন্য ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেওয়া হচ্ছে। এতে টার্মিনালের সব মাশুল ওই বিদেশি কোম্পানি আদায় করবে এবং কমিশনের বিষয়টি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দরে বর্তমানে চারটি কনটেইনার টার্মিনাল চালু রয়েছে। এর মধ্যে পতেঙ্গা টার্মিনালটি গত বছরের জুনে সৌদি আরবের একটি প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া হয়। বাকি তিনটি টার্মিনাল দেশীয় প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছে। নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয় বা চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য না করলেও, এর আগে নৌ উপদেষ্টা সাখাওয়াত হোসেন বিদেশি বিনিয়োগের মাধ্যমে বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধির কথা উল্লেখ করেছিলেন।

এস এম/ ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language