পশ্চিমবঙ্গ

সুপ্রিম কোর্টে নজিরবিহীন ঘটনা, নিজেই মামলা লড়লেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

ভারত, ৪ ফেব্রুয়ারি – ভারতের সুপ্রিম কোর্টে বুধবার এক নজিরবিহীন ঘটনা প্রত্যক্ষ করা গেছে। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যের ভোটার তালিকা সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে নিজের দায়ের করা মামলায় নিজেই যুক্তি উপস্থাপন করেছেন। যদিও তার আইনের ডিগ্রি রয়েছে তবুও একজন মুখ্যমন্ত্রীর এভাবে শীর্ষ আদালতে সওয়াল করার ঘটনা বিরল। ভারতের আইন আদালত সংক্রান্ত খবরের পোর্টাল লাইভ ল জানিয়েছে যে কোনো মুখ্যমন্ত্রী এই প্রথম নিজে শীর্ষ আদালতে সওয়াল করলেন। তবে তিনি স্বল্প সময়ের জন্যই আদালতের সামনে নিজের বক্তব্য পেশ করেন। মূলত পশ্চিমবঙ্গ সরকার ও মুখ্যমন্ত্রীর হয়ে সিনিয়র আইনজীবী শ্যাম দিভানই প্রধান বিচারপতি সুর্যকান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি ও বিচারপতি ভিপুল পাঞ্চোলির ডিভিশন বেঞ্চে সওয়াল জবাব চালিয়েছেন। শুনানির শেষে আদালত নির্দেশ দিয়েছে যাতে মামলার অন্য পক্ষ অর্থাৎ ভারতের নির্বাচন কমিশনকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দায়ের করা মামলার জন্য আইনি নোটিশ পাঠানো হয়। আগামী সোমবার মামলাটি আবার শুনানির জন্য উঠবে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে নিজেই সওয়াল করবেন তা তার দলের পক্ষ থেকে আগেই জানানো হয়েছিল। সেই অনুযায়ী মঙ্গলবার রাতেই তার নামে বিশেষ পাস দেয় শীর্ষ আদালত। বুধবার সকালে তিনি আদালতে পৌঁছান এবং দুপুরে মামলাটি শুনানির জন্য উঠলে তিনি আইনজীবীদের সঙ্গে সামনের সারিতে দাঁড়ান। এক পর্যায়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আদালতের কাছে কথা বলার অনুমতি চান। প্রধান বিচারপতি তাকে সময় দিলে তিনি এসআইআর প্রক্রিয়ার সমালোচনা করেন। তিনি বলেন যে ভোটার তালিকায় নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর করার উদ্দেশ্য হলো নাম তোলা নয় বরং নাম বাদ দেওয়া। তিনি অভিযোগ করেন যে গোটা প্রক্রিয়াটি বর্তমান ভোটারদের তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার একটি কৌশল যেখানে তাদের নথি দিয়ে নাগরিকত্ব প্রমাণ করতে বাধ্য করা হচ্ছে। তিনি ২০০২ সালকে কাট অফ বছর হিসেবে ধরার বিষয়টিকে সংবিধান ও জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেন।

মমতা উল্লেখ করেন যে বিয়ের পর নারীরা স্বামীর পদবি গ্রহণ করে শ্বশুরবাড়িতে চলে গেলে পদবি না মেলার অজুহাতে তাদের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন যে ২৪ বছর পর যে কাজ করতে দুই বছর লাগার কথা তা দুই মাসে শেষ করার এত তাড়া কেন ছিল। তিনি অভিযোগ করেন যে উৎসব ও চাষের মরসুমে মানুষকে নোটিশ পাঠিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন যে আসাম বা উত্তর পূর্বে এই প্রক্রিয়া করা হচ্ছে না কিন্তু বাংলাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। তিনি মাইক্রো অবজার্ভার নিয়োগ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এবং দাবি করেন যে ৫৮ লাখ মানুষের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী রাকেশ দ্বিবেদী জানান যে রাজ্য সরকার এসআইআর কাজের জন্য প্রয়োজনীয় কর্মকর্তা না দেওয়ায় কমিশনকে বাধ্য হয়ে মাইক্রো অবজার্ভার নিয়োগ করতে হয়েছে। শুনানির শেষে ডিভিশন বেঞ্চ নির্বাচন কমিশনকে নোটিশ পাঠানোর নির্দেশ দেয়। প্রধান বিচারপতি নির্বাচন কমিশনের আইনজীবীকে সতর্ক করে বলেন যে বানান ভুলের জন্য যেন ভোটারদের নোটিশ না পাঠানো হয়।

এসএএস/ ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language