ঢাকা

ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন: ঢাকায় ২৬ হাজার পুলিশ মোতায়েন ও ৮৬ শতাংশ কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা

ঢাকা, ৪ ফেব্রুয়ারি – ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজধানী ঢাকার নিরাপত্তা নিশ্চিতে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ বা ডিএমপি। ভোটকেন্দ্রের সুষ্ঠু পরিবেশ ও সার্বিক নিরাপত্তা রক্ষায় ২৬ হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য মোতায়েন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পুরো মহানগরীকে নিরাপত্তার চাদরে ঢাকতে চারটি প্রধান কন্ট্রোল রুম এবং আটটি সাব-কন্ট্রোল রুমের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারির ব্যবস্থা করা হচ্ছে। রাজধানীর মোট দুই হাজার ১৩১টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে এক হাজার ৮২৮টি কেন্দ্রকে গুরুত্বপূর্ণ বা ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে যা মোট কেন্দ্রের প্রায় ৮৬ শতাংশ।

সোমবার দুপুরে ডিএমপি সদর দপ্তরের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত এক সমন্বয় সভায় নির্বাচনের নিরাপত্তা পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় রাজধানীর ৫০টি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ ক্রাইম, ট্রাফিক ও গোয়েন্দা বিভাগের প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় ডিএমপি কমিশনার ভোটকেন্দ্রে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন এবং বিশেষ করে থানা থেকে দূরবর্তী কেন্দ্রগুলোতে নজরদারি ও পুলিশি টহল জোরদার করার তাগিদ দেন।

নিরাপত্তা পরিকল্পনা অনুযায়ী ঢাকার প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ বা ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রে তিনজন এবং সাধারণ কেন্দ্রে দুজন করে পুলিশ সদস্য সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবেন। তবে যেসব ভেন্যুতে একাধিক ভোটকেন্দ্র রয়েছে সেখানে পাঁচজন পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবেন এবং তাদের প্রত্যেকের কাছে আগ্নেয়াস্ত্র থাকবে। পুলিশের পাশাপাশি প্রতিটি কেন্দ্রে ১০ জন সাধারণ আনসার সদস্য ও একজন কর্মকর্তা পর্যায়ের সদস্যসহ মোট ১১ জন আনসার সদস্য মোতায়েন থাকবেন। এছাড়া প্রিসাইডিং অফিসারের নিরাপত্তার জন্য একজন সশস্ত্র আনসার সদস্য পৃথকভাবে দায়িত্ব পালন করবেন।

নির্বাচন কমিশনের চাহিদা অনুযায়ী নির্বাচনী সরঞ্জাম পরিবহন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের যাতায়াতের জন্য প্রায় তিন হাজার যানবাহন রিকুইজিশন করার প্রক্রিয়া আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হবে। নিরাপত্তার সুবিধার্থে রাজারবাগ পুলিশ লাইনস, মিরপুর পাবলিক অর্ডার ম্যানেজমেন্ট কার্যালয়, গুলশান কূটনৈতিক বিভাগ কার্যালয় এবং উত্তরা এলাকায় চারটি প্রধান কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হচ্ছে। ভোটকেন্দ্রের বাইরের নিরাপত্তায় পুলিশের পাশাপাশি র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন বা র‍্যাব কাজ করবে এবং প্রতিটি অপরাধ বিভাগে র‍্যাবের ছয়টি দল টহল দেবে। পাশাপাশি পুলিশের মোবাইল টিম ও স্ট্রাইকিং ফোর্স পুরো নির্বাচনী এলাকায় মোতায়েন থাকবে এবং নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনা প্রতিরোধে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা মাঠে থাকবেন।

এ এম/ ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language