জামায়াত স্বাধীনতার পক্ষে যুদ্ধ করেছিল—আগামীতে এমন কথাও শোনা যেতে পারে

কক্সবাজার, ৪ ফেব্রুয়ারি – ‘আগামীতে কোনো একদিন হয়তো এমন কথাও শুনতে হবে যে জামায়াতে ইসলামী নাকি এই দেশের স্বাধীনতার পক্ষে যুদ্ধ করেছিল’—এমন মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং কক্সবাজার-১ (চকরিয়া ও পেকুয়া) আসনে ধানের শীষের প্রার্থী সালাহউদ্দিন আহমদ।
মঙ্গলবার দুপুরে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার মাতামুহুরী সাংগঠনিক উপজেলার কোনাখালী ইউনিয়নের জঙ্গলকাটা এলাকায় আয়োজিত নির্বাচনী পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে এখন নতুন করে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত করার একটি অপচেষ্টা চলছে। তার দাবি, যে রাজনৈতিক দলটি—বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী—একাত্তরে এই দেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল, তারাই এখন মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, গতকাল তাদের দলের আমির যে বক্তব্য দিয়েছেন, সেখানে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণার বিষয়ে বিভ্রান্তিকর ও অসত্য তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দেননি, বরং অলি সাহেব দিয়েছেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এ ধরনের বক্তব্য অস্বাভাবিক কিছু নয়। কারণ যারা ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল, তারাই আজ ইতিহাস বিকৃত করার চেষ্টা করবে—এটাই স্বাভাবিক। তবে বাংলাদেশের মানুষ সব জানে। জনগণ জানে, তারা এখন নতুনভাবে নিজেদের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি হিসেবে উপস্থাপন করার যে চেষ্টা করছে, তা পুরোপুরি প্রতারণা ও ভণ্ডামি।
তিনি আরও বলেন, জামায়াতে ইসলামী একজন মুক্তিযোদ্ধাকে দলে যুক্ত করে, কার্যত ভাড়া করে, একটি সাইনবোর্ড দেখাতে চায় যে তাদের দলেও মুক্তিযোদ্ধা আছে। সেই মুক্তিযোদ্ধাকে ব্যবহার করে তারা বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে নিজেদের অবস্থান দেখানোর চেষ্টা করছে। কিন্তু দেশের প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারা এটা কখনোই মেনে নেবে না এবং তিনি বিশ্বাস করেন, তারা এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাবেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এই দেশের সব দেশপ্রেমিক মানুষ এবং স্বাধীনতার পক্ষের শক্তিগুলো এই ইতিহাস বিকৃতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ঝড় তুলবে। একজন রাজনৈতিক দলের কর্মী হিসেবে তাদের দায়িত্ব হলো যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাস নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াতে চায়, মিথ্যা তথ্য দেয় এবং ইতিহাস বিকৃত করে—তাদের বিরুদ্ধে শালীন ভাষায় হলেও দৃঢ়ভাবে নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো। সেই দায়িত্ব থেকেই তিনি আজ এসব বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, কয়েক দিন আগে তারা এই দেশের নারী সমাজকে চরমভাবে অপমান করেছে। সাক্ষাৎকারে কর্মজীবী নারীদের পতিতাদের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। পাশাপাশি নারীদের কর্মঘণ্টা কমিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তার মতে, বাস্তবে এই প্রস্তাব নারীদের কল্যাণের জন্য নয়, বরং নারীদের কর্মসংস্থান ধ্বংস করার একটি পরিকল্পনা।
এসময় উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজার জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জামিল ইব্রাহীম চৌধুরী, দফতর সম্পাদক ইউসুফ বদরী, মাতামুহুরী সাংগঠনিক উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হেফাজুতুর রহমান চৌধুরী টিপু, সাংগঠনিক সম্পাদক শোয়াইবুল ইসলাম সবুজসহ আরও অনেকে।
এনএন/ ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬









