
ঢাকা, ৩ ফেব্রুয়ারি – বেশির ভাগ পরিবারেই সব সদস্যের জন্য একই ধরনের খাবার রান্না করার প্রচলন রয়েছে। শিশু থেকে বৃদ্ধ সবাই মূলত একই খাবার খেয়ে থাকেন। তবে বয়সের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের শরীরের চাহিদা, হজমক্ষমতা, হরমোনের কার্যকারিতা এবং পুষ্টি শোষণের ধরনে পরিবর্তন আসে। ফলে এক বয়সে যে খাবারটি শরীরের জন্য উপকারী অন্য বয়সে তা সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং একাধিক আন্তর্জাতিক সংস্থার গবেষণায় বয়সভিত্তিক খাদ্যাভ্যাস নিয়ে বেশ কিছু সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। শূন্য থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশুদের শরীর ও মস্তিষ্কের বিকাশ দ্রুত ঘটে। বিশেষজ্ঞদের মতে এই বয়সে প্রক্রিয়াজাত খাবার ও অতিরিক্ত চিনি শরীরের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। প্যাকেটজাত বিস্কুট, চকোলেট বা মিষ্টি পানীয় শিশুদের দাঁতের ক্ষতি করার পাশাপাশি অল্প বয়সেই স্থূলতার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। ইউনিসেফের তথ্য অনুযায়ী শৈশবে অতিরিক্ত চিনি খাওয়ার অভ্যাস ভবিষ্যতে টাইপ টু ডায়াবেটিসের আশঙ্কা তৈরি করতে পারে। কিশোর বয়স বা ৬ থেকে ১৮ বছর বয়সে শারীরিক ও হরমোনজনিত পরিবর্তন ঘটে বলে পুষ্টিকর খাবারের প্রয়োজনীয়তা বেশি থাকে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে এই বয়সে ট্রান্স ফ্যাটযুক্ত ফাস্ট ফুড যেমন বার্গার বা চিপস নিয়মিত খেলে হৃদরোগের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এছাড়া আমেরিকান একাডেমি অব পেডিয়াট্রিক্সের মতে এনার্জি ড্রিংকে থাকা অতিরিক্ত ক্যাফেইন কিশোরদের ঘুমের সমস্যা ও হৃৎস্পন্দনের অস্বাভাবিকতা ঘটাতে পারে। উনিশ থেকে ৩৫ বছর বয়সী তরুণরা সাধারণত শরীর গঠনের দিকে বেশি নজর দেন। তবে জার্নাল অব রেনাল নিউট্রিশনের গবেষণা বলছে শরীর গঠনের জন্য দীর্ঘ দিন ধরে প্রয়োজনের অতিরিক্ত প্রোটিন সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ কিডনির ওপর মারাত্মক চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
এছাড়া অতিরিক্ত মদ্যপান লিভারে চর্বি জমার বা ফ্যাটি লিভারের অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত। মধ্যবয়স বা ৩৬ থেকে ৫৫ বছর বয়সে উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়তে থাকে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ অনুযায়ী এই বয়সে প্রতিদিন ৫ গ্রামের বেশি লবণ খাওয়া উচিত নয়। সাদা চাল, ময়দা ও চিনি জাতীয় খাবার রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়িয়ে দেয় বলে সতর্ক করেছে আইসিএমআর। ৫৫ বছরের বেশি বয়সীদের হজমশক্তি ও হাড়ের ঘনত্ব কমে যায়। তাই এই বয়সে রেড মিট ও ভাজাপোড়া খাবার এড়িয়ে চলা শ্রেয়। ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অন এজিং এর মতে এই বয়সে নরম, সহজপাচ্য এবং ফাইবারসমৃদ্ধ খাবার খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য সবচেয়ে ভালো। চিকিৎসকদের মতে সব বয়সের জন্য এক খাবার উপযুক্ত নয়, তাই সুস্থ থাকতে বয়সভেদে খাবারের ধরনে পরিবর্তন আনা জরুরি।
এ এম/ ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬









