তুরস্কে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বৈঠক: আলোচনার আগেই ট্রাম্পের কঠোর হুঁশিয়ারি

ওয়াশিংটন, ৩ ফেব্রুয়ারি – দীর্ঘ উত্তেজনা এবং পাল্টাপাল্টি হুমকির পর অবশেষে আলোচনার টেবিলে বসতে সম্মত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। আগামী শুক্রবার তুরস্কে এই দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এতে অংশ নেবেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকোফ।
তবে আলোচনা শুরুর আগেই কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন যে ইরান যদি চুক্তিতে না আসে তবে দেশটির সঙ্গে ভয়াবহ ঘটনা ঘটতে পারে।
ইরান পরিস্থিতি নিয়ে নিজের সর্বশেষ বক্তব্যে ট্রাম্প উল্লেখ করেছেন যে যুক্তরাষ্ট্রের বিশাল ও শক্তিশালী নৌবহর ইরানের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। তিনি বলেন ইরানের সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং দেখা যাক পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়। আলোচনার মাধ্যমে সমাধান হলে তা চমৎকার হবে তবে এর মাধ্যমে সুরাহা না হলে ইরানের জন্য খারাপ কিছু অপেক্ষা করছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের তথ্যমতে আলোচনার জন্য ট্রাম্প প্রশাসন তিনটি প্রধান শর্ত জুড়ে দিয়েছে। প্রথমত ইরানকে তাদের ইউরেনিয়াম মজুদ সম্পূর্ণভাবে শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে হবে। দ্বিতীয়ত তেহরানকে তাদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি সীমিত করতে হবে। তৃতীয়ত হুতি ও হিজবুল্লাহসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন প্রক্সি বাহিনীকে সহায়তা প্রদান বন্ধ করতে হবে।
ইরান এসব শর্তের বিষয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। ইরানের একাধিক সূত্র জানিয়েছে তারা পারমাণবিক কার্যক্রম বা ইউরেনিয়াম মজুদ নিয়ে আলোচনায় রাজি আছে। এমনকি পারমাণবিক কার্যক্রম স্থগিত করার বিষয়েও তাদের সম্মতি থাকতে পারে বলে নিউইয়র্ক টাইমসকে জানিয়েছেন আঞ্চলিক কর্মকর্তারা।
তবে ইরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে তাদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে কোনো ধরণের আলোচনা বা আপস করা হবে না।
এনএন/ ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬









