জনগণ আর পচা রাজনীতি নয়, ইনসাফভিত্তিক সরকার চায়

ময়মনসিংহ, ৩ ফেব্রুয়ারি – জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান মন্তব্য করেছেন যে দেশের মানুষ আর পুরোনো পচা রাজনীতি দেখতে চায় না। তারা কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা পরিবারকেন্দ্রিক ক্ষমতা আর দলীয় সরকার নয়, বরং ইনসাফের ভিত্তিতে গঠিত জনগণের সরকার চায়।
মঙ্গলবার দুপুরে ময়মনসিংহে ১১ দলীয় ঐক্য জোট আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ৫ আগস্টের পর যারা জনগণের সম্পদ গ্রাস করার জন্য চাঁদাবাজি শুরু করেছে এবং মামলা বাণিজ্য করে নিরীহ মানুষকে হয়রানি করছে জনগণ তাদের আর ভোট দেবে না।
তিনি আরও বলেন, যারা ঋণখেলাপিদের প্রশ্রয় দিচ্ছে, যুবসমাজ তাদের প্রত্যাখ্যান করেছে। যুবসমাজ জানিয়ে দিয়েছে যে তারা আর ধান্দাবাজি ও ধাপ্পাবাজির রাজনীতির সঙ্গে নেই। আসন্ন নির্বাচনে ভোটের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রথম ভোট হবে গণভোটে হ্যাঁ। হ্যাঁ মানে আজাদি আর না মানে গোলামি।
তিনি আশা প্রকাশ করেন যে ময়মনসিংহবাসী ইনসাফের পক্ষে রায় দিয়ে আজাদি ছিনিয়ে আনবে। বিদেশে পাচার হওয়া ২৮ লক্ষ কোটি টাকার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, চোরেরা দেশ থেকে যে টাকা পাচার করেছে তা ফিরিয়ে আনা হবে।
তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, আমাদের বার্ষিক বাজেটের চার গুণ এই টাকা চোরদের পেট থেকে বের করে আনা হবে। অপরাধীদের শুধু দেশে ফিরিয়ে আনাই নয় বরং তাদের বিচারের মুখোমুখি করে প্রতিটি পয়সা আদায় করা হবে।
নারীদের হিজাব ও পর্দা নিয়ে কটূক্তিকারীদের কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, যারা মায়েদের সম্মান দিতে জানে না তাদের মানুষ বলা যায় না। জুলাই বিপ্লবের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, আমরা এমন দেশ গড়ব যেখানে নারী ঘর থেকে বের হওয়ার পর পরম নিরাপত্তায় বাড়ি ফিরবে। কর্মস্থল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নারীরা সম্মান ও যোগ্যতার আসনে অধিষ্ঠিত হবে।
বেকার ভাতার সমালোচনা করে জামায়াত আমির বলেন, আমাদের যুবকেরা অপমানজনক বেকার ভাতা চায় না বরং তারা কাজ চায়। আমরা যুবকদের দক্ষ কারিগর হিসেবে গড়ে তুলে তাদের হাতে কাজ তুলে দেব। যারা ফ্যামিলি কার্ড বা ফারমার্স কার্ডের কথা বলছেন তাদের শাসনামলে সারের জন্য কৃষকদের ওপর গুলি চালানো হয়েছিল। তিনি বলেন, জনগণ এখন অনেক সচেতন।
কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ময়মনসিংহে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর কৃষিতে বিপ্লব হয়ে সারাদেশের চেহারা পাল্টে দেওয়ার কথা ছিল। গবেষণার জন্য পর্যাপ্ত বাজেট ও লজিস্টিক সরবরাহের অভাব থাকা সত্ত্বেও এ বিশ্ববিদ্যালয় দেশকে অনেক কিছু দিয়েছে। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে আল্লাহ সুযোগ দিলে এই কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়কে বিশ্বের বুকে একটি শ্রেষ্ঠ বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে গড়ে তোলা হবে।
তিনি আরও বলেন, জাতি গড়তে হলে ভালো শিক্ষা প্রয়োজন। কিন্তু বাজেটে শিক্ষাকে অবহেলা করা হয় এবং দলীয় আনুগত্য দেখিয়ে অসৎ লোকদের হাতে বাজেট তুলে দেওয়া হয়।
তিনি ঘোষণা দেন যে আমরা প্রত্যেকটা বিভাগীয় শহরকে স্মার্ট নগরীতে পরিণত করব। এই স্মার্ট নগরীতে উন্নত শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা থাকবে এবং এটি হবে পরিবেশবান্ধব।
তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, যারা ব্যবসা বাণিজ্য করবেন তাদের কাছে কেউ চাঁদা চাইতে পারবে না। চাঁদাবাজদের হাত স্বয়ংক্রিয়ভাবে অবশ হয়ে যাবে এবং কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। তিনি চাঁদাবাজদের এই নিকৃষ্ট পেশা ছেড়ে দেওয়ার আহ্বান জানান।
এনএন/ ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬









