জাতীয়

গ্রেপ্তার হতে পারেন এমপি নিক্সন চৌধুরী?

ঢাকা, ১৩ অক্টোবর- ‘অনিয়ম, অন্যায়, প্রশাসনের উপর অযাচিত হস্তক্ষেপ সহ্য করা হবে না। যারাই প্রশাসনকে হুমকি দেবে, তাদের বিরুদ্ধেই যথাযথ আইনী ব্যবস্থা নেয়া হবে। কারো পরিচয় দেখা হবে না।’ এরকম নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গণভবনে আজ একটি অনুষ্ঠানের পর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের তিনি এই নির্দেশ দিয়েছেন। গণভবনের একাধিক সূত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

প্রধানমন্ত্রীর এই কঠোর অবস্থানের পর গুঞ্জন শুরু হয়েছে, তাহলে কি গ্রেপ্তার হতে পারেন ফরিদপুর-৪ আসনের এমপি নিক্সন চৌধুরী? টানা তৃতীয় মেয়াদে এবং মোট চতুর্থবারের মতো প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ২০১৮ তে টানা তৃতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেয়ার পর থেকেই দুর্নীতি, অনিয়ম এবং অপকর্মের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে শেখ হাসিনা। দলের ভেতরে বাইরে যারাই অপকর্ম করছে তাদের বিরুদ্ধেই আইনের প্রয়োগ করা হচ্ছে।

শেখ হাসিনার শুদ্ধি অভিযানে দলের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরাও বাদ যায়নি। প্রধানমন্ত্রী জাতীয় সংসদেও শুদ্ধি অভিযানের প্রেক্ষাপটে বলেছেন ‘অন্যায়কারীর পরিচয় অন্যায়কারী।’ গত বছরের শুদ্ধি অভিযানে শেখ হাসিনা তার নিকটাত্মীয় ওমর ফারুক চৌধুরীকে যুবলীগের চেয়ারম্যানের পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছিলেন। ফুফাতো ভাই, শেখ মারুফকে গণভবনে ঢুকতে দেন নি। সাম্প্রতিক সময়ে ফরিদপুরে যে শুদ্ধি অভিযান পরিচালিত হয়েছে, তাতে প্রধানমন্ত্রীর এক আত্মীয়ের ঘনিষ্ঠরাই গ্রেপ্তার হয়েছেন। তাই, ফরিদপুরে জেলা প্রশাসকসহ প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের যে ‘হুমকির’র ঘটনা এখন আলোচনা হচ্ছে, তা যদি সত্যি হয় তাহলে নিক্সন চৌধুরীও যে পার পাবেন না তা বলাই বাহুল্য।

আরও পড়ুন: ফেসবুক শমী কায়সারের বিয়ে নিয়ে সিদ্দিকী নাজমুলের স্ট্যাটাস

নিক্সন চৌধুরীর হুমকি এবং অশোভন আচরনের ব্যাপারে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করেছেন ফরিদুরের জেলা প্রশাসক এবং চরভদ্রাসনের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে অভিযোগ তদন্তের জন্য। সরকারের একটি সূত্র বলছে, নিক্সনের বিরুদ্ধে দুটি অভিযোগ,

প্রথমত: তিনি নির্বাচন কাজে বাঁধা সৃষ্টি করেছেন। নির্বাচন কমিশন এব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলেছে।

দ্বিতীয়ত: তিনি প্রশাসনকে হুমকি দিয়েছেন। এটাও অপরাধ। এই দুই অভিযোগই তদন্ত হচ্ছে। তদন্ত হলেই বোঝা যাবে, এই ঘটনায় কার দায় কতটুক। তবে, একটি সূত্র বলছে, নিক্সনের সাথে আওয়ামী লীগের এক হেভীওয়েট নেতার দ্বন্দ্ব পুরনো। সাম্প্রতিক ঘটনায় ঐ হেভীওয়েট নেতা নিশ্চয়ই নিক্সনকে চাপে ফেলার চেষ্টা করতে পারেন।

সূত্র: বাংলা ইনসাইডার

আর/০৮:১৪/১৩ অক্টোবর

Back to top button