ক্ষমতায় এলে বাস্তবসম্মত সংস্কারের মাধ্যমে অঙ্গীকার পূরণ করা হবে

ঢাকা, ৩১ জানুয়ারি – জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান ও দলের মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেছেন, এনসিপি ও ১১ দলীয় জোট ক্ষমতায় এলে আইন, নীতি ও প্রশাসনিক সংস্কারের মাধ্যমে অঙ্গীকার বাস্তবায়নে আমরা দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করব।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর একটি হোটেলে দলের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
এনসিপির মুখপাত্র বলেন, আমরা একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে দাঁড়িয়ে আছি। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আমরা জানি, তারুণ্যের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর জাতীয় নাগরিক পার্টির প্রতি আপনাদের আকাঙ্ক্ষা রয়েছে, দেশবাসীর প্রত্যাশা রয়েছে। আপনারা আমাদের ইশতেহার, আমরা কী প্রমিস করছি, কী কমিটমেন্ট করছি, সেটা শুনতে দীর্ঘদিন ধরে আগ্রহী ছিলেন। আজ সেই দিন, আজ সেই ইশতেহার ঘোষণা করা হলো। বাংলাদেশের রাষ্ট্র গঠনের ইতিহাস মানুষের রক্ত ও আত্মত্যাগের ইতিহাসে ভরা। কিন্তু বাস্তবতা হলো স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরও আমরা গণতন্ত্র, সাম্য ও মানবিক মর্যাদা সম্পন্ন একটি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে ব্যর্থ হয়েছি। এই ব্যর্থতা এবং বাস্তবতা স্বীকার করাই আমাদের রাষ্ট্র সংস্কারের প্রথম ধাপ বলে আমরা মনে করি।
আসিফ মাহমুদ বলেন, দীর্ঘদিনের দলীয়করণ, ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ ও বিচারহীনতা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে দুর্বল করেছে। এর ফলে নাগরিক অধিকার সংকুচিত হয়েছে এবং শাসন ব্যবস্থায় জবাবদিহিতা ভেঙে পড়েছে।
তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর গণতান্ত্রিক রূপান্তরের ম্যান্ডেট, জনগণের আকাঙ্ক্ষা ও গণঅভ্যুত্থান ছিল রাষ্ট্রকে আগের কাঠামোতে চালানোর বিপক্ষে এবং একটি নতুন গণতান্ত্রিক রূপান্তরের মাধ্যমে রাষ্ট্রের পুনর্গঠন ও পুনর্বিন্যাসের স্পষ্ট বার্তা। জাতীয় নাগরিক পার্টি বিশ্বাস করে, মৌলিক ও কাঠামোগত সংস্কার ছাড়া স্থায়ী গণতান্ত্রিক রূপান্তর সম্ভব নয়। সেকেন্ড রিপাবলিক কোনো স্লোগান নয়; এটি একটি জবাবদিহিতামূলক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মানবিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার।
এনসিপির নির্বাচন কমিটির চেয়ারম্যান বলেন, বাংলাদেশের নির্বাচনের ইতিহাসে অনেক ইশতেহার আমরা দেখেছি। সাধারণত দেখা যায়, শিক্ষায় ও স্বাস্থ্যে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দের কথা বলা হয়ে থাকে। সেটা বাস্তব হোক বা না হোক, আমরা সেটিকে ভেঙে বাস্তবিকভাবে প্রয়োগযোগ্য কিছু বের করার চেষ্টা করেছি। আমরা বিশ্বাস করি, এই ইশতেহারের মাধ্যমে আগামী পাঁচ বছরে বাস্তবতার ভিত্তিতে যতটুকু সম্ভব বাস্তবায়ন করা যাবে।
আসিফ মাহমুদ বলেন, এই ইশতেহার জনগণের সঙ্গে দীর্ঘ কথোপকথনের ফল। জুলাই পথযাত্রা থেকে শুরু করে আমরা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে গিয়েছি। মানুষের কথা শুনেছি, তারা আমাদেরকে তাদের বক্তব্য ও দাবিগুলো জানিয়েছেন। সমাজের বিভিন্ন কমিউনিটির সঙ্গে বসেছি, বিভিন্ন পেশাজীবী ও শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা করেছি। এই সব কথার ভিত্তিতে ১২টি অধ্যায়ের ৩৬ দফার অগ্রাধিকার বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে ইশতেহার তৈরি করা হয়েছে।
এনএন/ ৩১ জানুয়ারি ২০২৬









