হুমকির মুখে নয়, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ‘ন্যায্য’ আলোচনায় প্রস্তুত ইরান

তেহরান, ৩১ জানুয়ারি – যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই তেহরান জানিয়েছে যে তারা ন্যায্য ও সমতাভিত্তিক আলোচনার জন্য প্রস্তুত। তবে হুমকির মুখে কোনো ধরনের আলোচনায় বসা সম্ভব নয় বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।
শুক্রবার তুরস্ক সফরকালে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, ইরানের প্রতিরক্ষা ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা নিয়ে কোনো আপস করা হবে না এবং এটি আলোচনার বিষয়বস্তু হতে পারে না। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইরানি জনগণের নিরাপত্তার বিষয়টি অন্য কোনো দেশের আলোচনার বিষয় নয় এবং প্রয়োজনে দেশটি তার প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি করবে।
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের দিকে বিশাল নৌবহর পাঠানোর ঘোষণা দেন। এছাড়া চুক্তি না হলে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের ট্রাম্প জানান, যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনের পাশাপাশি ইরানকে একটি সময়সীমাও বেঁধে দেওয়া হয়েছে যা কেবল তেহরানই জানে।
উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে ইরানের সঙ্গে স্বাক্ষরিত পারমাণবিক চুক্তি থেকে একতরফাভাবে সরে আসে ট্রাম্প প্রশাসন। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ পুরোপুরি বন্ধের দাবি জানাচ্ছে। যদিও তেহরান ধারাবাহিকভাবে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
এমন উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবের মতো আঞ্চলিক দেশগুলো কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করেছে। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালনে প্রস্তুতি প্রকাশ করেছেন। পাশাপাশি তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান মন্তব্য করেছেন, পারমাণবিক আলোচনা পুনরায় শুরু হলে তা ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পথ সুগম করতে পারে।
এনএন/ ৩১ জানুয়ারি ২০২৬









