ব্যবসা-বাণিজ্য সহজ ও রপ্তানি বৃদ্ধিতে আমদানি নীতি আদেশ ২০২৫-২০২৮ অনুমোদন

ঢাকা, ৩০ জানুয়ারি – বাণিজ্য সহজীকরণ, রপ্তানি বাড়ানো এবং ব্যবসা-বান্ধব পরিবেশ তৈরি করতে অন্তর্বর্তী সরকার “আমদানি নীতি আদেশ ২০২৫–২০২৮”-এর খসড়া অনুমোদন দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এই অনুমোদন দেওয়া হয়। বিকেলে রাজধানীর বেইলি রোডে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, একটি দেশের রপ্তানির সক্ষমতা অনেকটাই নির্ভর করে আমদানি নীতির উপর। রপ্তানি খাতকে উৎসাহিত করতে এই নীতিকে এমনভাবে সাজানো হয়েছে, যাতে প্রয়োজনীয় কাঁচামাল ও উপকরণ সহজে দেশে নিয়ে এসে প্রক্রিয়াজাত করে বিদেশে রপ্তানি করা যায়।
প্রেস সচিব বলেন, নতুন আমদানি নীতির ফলে ট্রেড ফ্যাসিলিটেশন বাড়বে, শুল্ক আদায় ও শুল্কায়ন ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে হবে, আর রাজস্ব আদায়ও বাড়বে। একই সঙ্গে আমদানিকৃত পণ্যের খালাসে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার বিধান কার্যকর হবে এবং পরবর্তী নিরীক্ষা নিশ্চিত করা হবে। প্রথমবার পরীক্ষায় ফলাফল খারাপ হলে আমদানিকারকরা দ্বিতীয়বার পরীক্ষা করার সুযোগ পাবেন, যা আগে ছিল না। এর ফলে আমদানির প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ ও ন্যায়সঙ্গত হবে।
শফিকুল আলম বলেন, ব্যবসায়ীরা দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছিলেন যে বাংলাদেশে ব্যবসার পরিবেশ যথেষ্ট অনুকূল নয়। নতুন আমদানি নীতির মাধ্যমে সেই পরিবেশ আরও ব্যবসা-বান্ধব হবে এবং রপ্তানি আরও বাড়বে। রপ্তানিমুখী শিল্প, বিশেষ করে তৈরি পোশাক (আরএমজি), চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, জুতা, জাহাজ নির্মাণ, ফার্নিচার ও ফার্নিশিং খাত ফ্রি অব কস্ট ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় উপকরণ আমদানি করতে পারবে। এতে এসব খাতের উৎপাদন ও রপ্তানির সক্ষমতা আরও বাড়বে।
নন-ট্যারিফ ব্যারিয়ার (এনটিবি) কমাতে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার নীতি অনুসরণ করে দৈবচয়ন পদ্ধতিতে সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ আমদানিকৃত পণ্যের পরীক্ষা করার বিধান রাখা হয়েছে। এছাড়া সরকারি পরিকল্পিত ফ্রিট্রেড জোন গঠনের বিষয়টিও নতুন নীতিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা ভবিষ্যতে বিনিয়োগ ও রপ্তানি বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এনএন/ ৩০ জানুয়ারি ২০২৬









