ইরানে হামলায় সৌদি ভূখণ্ড বা আকাশসীমা ব্যবহার করা যাবে না

রিয়াদ, ২৯ জানুয়ারি – সৌদি আরব জানিয়েছে, তাদের ভূখণ্ড বা আকাশসীমা ব্যবহার করে ইরানে কোনো হামলা চালাতে দেওয়া হবে না। গতকাল মঙ্গলবার সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।
আজ বুধবার (২৮ জানুয়ারি) সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানায়। বিবৃতিতে বলা হয়, টেলিফোনালাপে ক্রাউন প্রিন্স ইরানের প্রেসিডেন্টকে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, সৌদি আরবের ভূখণ্ড ব্যবহার করে ইরানে কোনো হামলা চালাতে দেওয়া হবে না এবং একইভাবে সৌদির আকাশসীমাও ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না বলে তিনি আশ্বস্ত করেছেন।
এ সময় ক্রাউন প্রিন্স ইরানের প্রেসিডেন্টকে সৌদি আরবের অবস্থান জানিয়ে বলেন, সৌদি আরব ইরানের ভৌগোলিক অখণ্ডতাকে সম্মান করে।
এর মধ্যেই ইরানের বিরুদ্ধে আগের চেয়ে বড় হামলার হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ইরান যদি হামলা এড়াতে চায়, তাহলে তাদের যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তিতে যেতে হবে এবং ইরান কোনো ধরনের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে পারবে না।
তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, গত বছরের জুনে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালিয়েছিল। সে সময় ইরানের সঙ্গে দখলদার ইসরায়েলের যুদ্ধ চলছিল।
এর আগের হামলার চেয়ে আরও বড় হামলার হুমকি দিয়ে ট্রাম্প লেখেন, একটি বিশাল যুদ্ধজাহাজের বহর ইরানের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। প্রচণ্ড শক্তি ও নির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে বহরটি দ্রুতগতিতে অগ্রসর হচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, ভেনেজুয়েলায় আগে যে বাহিনী পাঠানো হয়েছিল, বিশাল রণতরী ‘আব্রাহাম লিঙ্কন’-এর নেতৃত্বে থাকা সেই বহরের চেয়েও এটি বড়। এই বহর যেকোনো সময় অভিযানে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত এবং প্রয়োজনে দ্রুত ও ভয়াবহ হামলা চালাতেও তারা পিছপা হবে না বলে তিনি মন্তব্য করেন।
ট্রাম্প আরও লেখেন, তিনি আশা করছেন ইরান দ্রুত আলোচনার টেবিলে আসবে এবং একটি সঠিক চুক্তিতে রাজি হবে। তার ভাষায়, স্পষ্ট কথা হলো—ইরান কোনো পারমাণবিক অস্ত্র রাখতে পারবে না এবং এই চুক্তি সবার জন্যই ভালো হবে। তিনি বলেন, সময় দ্রুত শেষ হয়ে আসছে এবং হাতে খুব বেশি সময় নেই। ট্রাম্প দাবি করেন, তিনি আগেও ইরানকে সমাধানের পথে আসার কথা বলেছিলেন, কিন্তু তারা তা শোনেনি বলেই গত জুনে ‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’ চালানো হয়েছিল, যাতে ইরানের বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছিল। তিনি সতর্ক করে বলেন, ভবিষ্যতে আবার হামলা হলে তা আরও মারাত্মক হবে এবং এমন পরিস্থিতি যেন ইরান আবার ডেকে না আনে।
এনএন/ ২৯ জানুয়ারি ২০২৬









