সামরিক হুমকির মুখে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসবে না ইরান

তেহরান, ২৮ জানুয়ারি – যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানকে ক্রমাগত সামরিক হুমকি প্রদান করতে থাকে, তবে তেহরান কোনো প্রকার আলোচনায় অংশ নেবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা পুরোপুরি নাকচ না করায় বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল আকার ধারণ করেছে।
ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় একটি শক্তিশালী মার্কিন নৌবহর অবস্থান করছে। উদ্ভূত এই পরিস্থিতিতে আঞ্চলিক সমর্থন আদায়ের লক্ষ্যে ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তারা অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে কূটনৈতিক তৎপরতা চালাচ্ছেন এবং বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আরব দেশের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলছেন।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর সামরিক ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি উড়িয়ে দেননি। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের তথ্য অনুযায়ী, ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের নেতৃত্বে একটি যুদ্ধবহর মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছেছে, তবে কৌশলগত কারণে এর সুনির্দিষ্ট অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, যুক্তরাষ্ট্র হয়তো ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালাতে পারে, অথবা দেশটির শীর্ষ নেতৃত্বকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে বিশেষ অভিযান পরিচালনার পরিকল্পনাও তাদের থাকতে পারে।
তবে এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, সামরিক হুমকির পাশাপাশি কূটনীতি চালানো কখনোই কার্যকর বা ফলপ্রসূ হতে পারে না।
টেলিভিশনে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি সত্যিকার অর্থেই আলোচনা চায়, তবে তাদের হুমকি প্রদান, অতিরিক্ত দাবি এবং অযৌক্তিক বিষয়গুলো উত্থাপন করা বন্ধ করতে হবে।
আরাঘচি আরও নিশ্চিত করেছেন যে, সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের সঙ্গে তার কোনো যোগাযোগ হয়নি এবং ইরান নিজেও আগ বাড়িয়ে আলোচনা শুরু করার কোনো চেষ্টা করেনি।
গত মঙ্গলবার ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের মধ্যে টেলিফোনে আলাপচারিতা হয়। এই ফোনালাপের পর থেকেই ইরান যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র হিসেবে পরিচিত কয়েকটি আরব দেশের সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধি করেছে।
এছাড়া ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব আলী লারিজানি কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান আল থানির সঙ্গে কথা বলেছেন। এ বিষয়ে কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা উত্তেজনা হ্রাস এবং যেকোনো সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধানের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।
অন্যদিকে, মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আবদেলাত্তি পৃথকভাবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং মার্কিন দূতের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। তিনি উভয় পক্ষকে উত্তেজনা কমিয়ে আনার এবং পুনরায় সংলাপ শুরু করার মতো অনুকূল পরিবেশ তৈরির আহ্বান জানিয়েছেন।
এনএন/ ২৮ জানুয়ারি ২০২৬









