সীমান্তে কাঁটাতার: ৩১ মার্চের মধ্যে বিএসএফকে জমি হস্তান্তরের নির্দেশ হাই কোর্টের

কলকাতা, ২৮ জানুয়ারি – ভারত ও বাংলাদেশ সীমান্তে যে অংশগুলি এখনও অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে, সেখানে দ্রুত কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার কাজ শেষ করার নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাই কোর্ট। আদালতের স্পষ্ট নির্দেশ হলো, সীমান্ত এলাকায় বেড়া দেওয়ার জন্য জমি অধিগ্রহণ বাবদ কেন্দ্রীয় সরকার যে অর্থ বরাদ্দ করেছে, সেই জমি অবিলম্বে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বা বিএসএফ-এর হাতে তুলে দিতে হবে।
জমি হস্তান্তরের এই প্রক্রিয়ার জন্য পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারকে একটি নির্দিষ্ট সময়সীমাও বেঁধে দিয়েছে উচ্চ আদালত। আদালতের নির্দেশিকা অনুযায়ী, আগামী ৩১ মার্চের মধ্যেই বিএসএফ-কে সংশ্লিষ্ট জমি বুঝিয়ে দেওয়ার কাজ সম্পন্ন করতে হবে রাজ্য সরকারকে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, বাংলাদেশ ও ভারত সীমান্তের একটি বিশাল অংশ এখনও কাঁটাতারবিহীন অবস্থায় পড়ে রয়েছে। সীমান্তের এই অরক্ষিত অংশে বেড়া দেওয়া নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরেই বেশ কিছু জটিলতা চলছে। কাঁটাতার বসানোর জন্য সবার আগে প্রয়োজন জমি অধিগ্রহণ করা। ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারকে ওই জমি অধিগ্রহণ করে তা বিএসএফ-এর হাতে তুলে দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল।
কিন্তু অভিযোগ উঠেছে যে, সীমান্তে বেড়া দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় জমি অধিগ্রহণ করা হলেও পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার তা হস্তান্তর করছে না। এই বিষয়টি শেষ পর্যন্ত গড়ায় কলকাতা হাই কোর্টে। গত মঙ্গলবার বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি পার্থসারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চ একটি আদেশে জানিয়েছে, যে সমস্ত জমি ইতিমধ্যেই অধিগ্রহণ করা হয়েছে, তা আগামী ৩১ মার্চের মধ্যে বিএসএফ-কে হস্তান্তর করতে হবে।
শুনানির সময় বেঞ্চের পক্ষ থেকে রাজ্যের আইনজীবীর কাছে প্রশ্ন রাখা হয়, জাতীয় নিরাপত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জড়িত থাকা সত্ত্বেও রাজ্য সরকার কেন নিজস্ব ক্ষমতায় জমি অধিগ্রহণ করছে না? প্রয়োজনে ভূমি অধিগ্রহণ আইনের ৪০ নম্বর ধারা কেন প্রয়োগ করা হচ্ছে না, সেই প্রশ্নও তোলে আদালত।
বেঞ্চের অপর বিচারপতি পার্থসারথি সেন মন্তব্য করেন, আন্তর্জাতিক সীমানার অংশীদার হওয়া সত্ত্বেও রাজ্যের পক্ষ থেকে উদ্যোগ না নেওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক বিষয়। আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, জমি হস্তান্তর করার ক্ষেত্রে শুধুমাত্র ‘সোশ্যাল ইম্প্যাক্ট অ্যাসেসমেন্ট’ প্রক্রিয়ার অজুহাত দেখানো সঠিক নয়।
কলকাতা হাই কোর্টের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে যে, প্রায় ১৮০ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকায় জমি অধিগ্রহণের জন্য পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে ইতিমধ্যেই অর্থ প্রদান করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। এর পাশাপাশি আদালত আরও জানিয়েছে, কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার জন্য যে সব জমির ক্ষেত্রে এখনও পর্যন্ত রাজ্য মন্ত্রিসভার অনুমোদন পাওয়া যায়নি, সেখানে জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে জরুরি ভিত্তিতে অধিগ্রহণ সম্ভব কি না, সে বিষয়ে কেন্দ্র ও রাজ্যের বক্তব্য শোনা হবে। উভয় পক্ষকেই এ বিষয়ে হলফনামা জমা দিতে বলা হয়েছে। আগামী ২ এপ্রিল এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছে কলকাতা হাই কোর্ট।
এনএন/ ২৮ জানুয়ারি ২০২৬









