জাতীয়

ভোটারদের নিরাপদে কেন্দ্রে পৌঁছানো নিশ্চিত করতে চাই

খুলনা, ২৭ জানুয়ারি – বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, প্রতিটি মানুষের ভোটাধিকার প্রয়োগের স্বাধীনতা থাকতে হবে। ভোট যার যেখানে খুশি সেখানে দেবেন, তবে আমরা ভোটারদের নিরাপদে ভোটবাক্স পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব পালন করতে চাই। আগামী ১৩ ফেব্রুয়ারি আমরা একটি অভিশাপমুক্ত নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যাশা করছি।

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) খুলনার সার্কিট হাউজ মাঠে জামায়াতে ইসলামী খুলনা মহানগরী ও জেলা শাখা আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শিল্পনগরী খুলনার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বিগত সরকারের ভুল নীতি এবং লুটপাটের কারণে খুলনায় একের পর এক শিল্প-কলকারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে আমরা বন্ধ হয়ে যাওয়া মিল-কারখানাগুলো পুনরায় চালু করার উদ্যোগ নেব এবং পাশাপাশি নতুন নতুন শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলব।

যুব সমাজের কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, আমরা বেকার যুবকদের হাতে কেবল নামমাত্র বেকার ভাতা তুলে দিয়ে তাদের অপমানিত করতে চাই না। বরং তাদের হাতে কাজ তুলে দিয়ে কর্মসংস্থানের মাধ্যমে তাদের সম্মানিত করতে চাই। জুলাই বিপ্লবে এ দেশের যুব সমাজ যে অসামান্য অবদান রেখেছে, আমরা কিছুটা হলেও সেই ঋণের বোঝা লাঘব করতে চাই।

তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারা প্রতিটি নারী ও পুরুষের ভোটের অধিকার রক্ষার পাহারাদার হিসেবে কাজ করবেন। ভোটাররা যেন নির্ভয়ে তাদের পছন্দমতো প্রার্থীকে ভোট দিতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে হবে। এ সময় তিনি বিগত ১৭ বছরের দুঃশাসন এবং ২০০৮ সালের ২৮ অক্টোবর লগি-বৈঠার সহিংসতায় নিহত শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন। পাশাপাশি তিনি আহত, পঙ্গু, কারানির্যাতিত এবং গুমের শিকার ব্যক্তিদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা ও সহমর্মিতা প্রকাশ করেন।

ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, ৫ আগস্টের পর আমাদের দলের নেতাকর্মীরা কোনো প্রকার প্রতিহিংসায় জড়াননি। বরং তারা দেশের সম্পদ ও মানুষের জানমাল রক্ষায় পাহারাদারের ভূমিকা পালন করেছেন। এর মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে যে জামায়াতে ইসলামীর কাছেই দেশের মানুষ সবচেয়ে বেশি নিরাপদ। জামায়াত ক্ষমতায় গেলে মন্ত্রী বা এমপিদের ব্যক্তিগত কোনো লাভ হবে না, বরং পুরো বাংলাদেশকে একটি মর্যাদাশীল ও শক্তিশালী অর্থনীতির ওপর দাঁড় করানো হবে।

দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও সহিংসতার বিষয়ে তিনি বলেন, কেউ কেউ পুরোনো ফ্যাসিবাদের রূপ ধারণ করতে চাইছে। কিন্তু জুলাইয়ের আন্দোলনে যুবসমাজ বুঝিয়ে দিয়েছে যে এ দেশে আর স্বৈরাচারী ব্যবস্থা কায়েম করা সম্ভব নয়। নির্বাচনী সহিংসতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একটি পক্ষ একদিকে ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধা দিচ্ছে, আর অন্যদিকে মা-বোনদের ওপর হামলা চালাচ্ছে। যারা নারীদের অসম্মান করছেন, তাদের অবিলম্বে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানান তিনি। হামলাকারীদের সতর্ক করে তিনি বলেন, এখন মাঘ মাসেই যদি আপনাদের মাথা এত গরম থাকে, তবে চৈত্র মাস এলে আপনারা কী করবেন?

উক্ত জনসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির নেতা রাশেদ প্রধান, খুলনা-৬ আসনে জামায়াত মনোনীত এবং ১১ দলীয় ঐক্য সমর্থিত প্রার্থী মাওলানা আবুল কালাম আজাদ, খুলনা-৪ আসনে খেলাফত মজলিস মনোনীত প্রার্থী মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন, খুলনা-২ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল, খুলনা-১ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী এবং খুলনা জেলা হিন্দু মহাজোটের সভাপতি বাবু কৃষ্ণ নন্দীসহ জেলা ও মহানগরের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

এনএন/ ২৭ জানুয়ারি ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language