মাদুরো গ্রেপ্তারের সময় যুক্তরাষ্ট্রের ১৫ মিনিটের আল্টিমেটামের তথ্য ফাঁস

কারাকাস, ২৬ জানুয়ারি – ভেনেজুয়েলার সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেপ্তার করার মার্কিন সামরিক অভিযান সংক্রান্ত চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছেন দেশটির ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ। তিনি জানিয়েছেন, অভিযানের সময় মার্কিন সেনারা মাদুরোর মন্ত্রিসভার সদস্যদের মাত্র ১৫ মিনিট সময় বেঁধে দিয়েছিলেন। এই সময়ের মধ্যে সিদ্ধান্ত নিতে হবে, নতুবা তাদের হত্যা করা হবে।
রদ্রিগেজ বলেন, প্রেসিডেন্টকে অপহরণের প্রথম মিনিট থেকেই হুমকি শুরু হয়েছিল। তারা আল্টিমেটামের জবাব দিতে দিয়োসদাদো (কাবেয়ো—স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী), হোর্হে (রদ্রিগেজের ভাই ও কংগ্রেসের সভাপতি) এবং আমাকে ১৫ মিনিট সময় দিয়েছিলেন। যদি এই সময়ের মধ্যে সিদ্ধান্ত না নেওয়া হতো, তাদের হত্যা করা হতো।
যুক্তরাষ্ট্রের হামলার সাত দিন পর ভেনেজুয়েলায় অনুষ্ঠিত এক দুই ঘণ্টার বৈঠকের ফাঁস হওয়া ভিডিওতে রদ্রিগেজকে দেখা যায়। এতে তিনি বলেন, তার অগ্রাধিকার ছিল রাজনৈতিক ক্ষমতা বজায় রাখা। ভিডিওতে দেখা যায়, মাদুরোকে সরানোর পর মন্ত্রিসভার বাকি সদস্যরা কীভাবে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ পুনঃপ্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছেন। রদ্রিগেজ বলেন, মাদুরো আটক হওয়ার আগে তিনি ও তার ভাই ট্রাম্পের সহযোগিতায় রাজি ছিলেন। তবে ভিডিওতে দেখা যায়, মন্ত্রিসভার অন্যান্য সদস্যরা বিশ্বাসঘাতক হিসেবে চিহ্নিত হওয়ার ব্যাপারে শঙ্কিত ছিলেন।
রদ্রিগেজ বলেন, এই পরিস্থিতিতে দায়িত্ব নিতে গিয়ে কষ্টকর পরিস্থিতি ছিল। তিনি আরও জানান, মার্কিন সশস্ত্র বাহিনী জানিয়েছিল, মাদুরো এবং তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেস অপহৃত হয়নি, বরং হত্যা করা হয়েছে। জবাবে তিনি বলেন, তিনি, তার ভাই ও কাবেয়ো একই পরিণতি স্বীকার করতে প্রস্তুত ছিলেন।
রদ্রিগেজ বলেন, এই মুহূর্তেও হুমকি ও ব্ল্যাকমেইল অব্যাহত রয়েছে। তাই তাদের ধৈর্য ও কৌশলগত বিচক্ষণতার সঙ্গে স্পষ্ট লক্ষ্য নিয়ে এগোতে হবে। তিনি তিনটি লক্ষ্য উল্লেখ করেন: শান্তি বজায় রাখা, জিম্মিদের উদ্ধার এবং রাজনৈতিক ক্ষমতা সংরক্ষণ।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার দাবির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ আচরণ করার কারণে রদ্রিগেজের প্রশংসা করেছেন। তবে রদ্রিগেজ বলেন, তিনি এটি কেবল হুমকি ও ব্ল্যাকমেইলের কারণে করেছেন। জানুয়ারিতে ট্রাম্প এ কথা জানিয়েছিলেন যে, রদ্রিগেজ যদি সঠিক কাজ না করেন, তবে তাকে কঠিন পরিণতি ভোগ করতে হবে, সম্ভবত মাদুরোর চেয়েও বড়।
তবে ইতিহাসবিদ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক মার্গারিতা লোপেজ মায়া বলেছেন, এটি রদ্রিগেজের নিজের নিরাপত্তার জন্য দেওয়া বয়ান হতে পারে। কারণ সবাই জানে, মাদুরোকে অপসারণ করা অভ্যন্তরীণ সহযোগিতা ছাড়া সম্ভব ছিল না।
মাদুরো আটক হওয়ার পর থেকে ভেনেজুয়েলা সরকার যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কথা বললেও ট্রাম্পের সব দাবি মেনে নিয়েছে। মাদুরোর স্থলাভিষিক্ত হন তার ভাইস প্রেসিডেন্ট রদ্রিগেজ, যাকে ট্রাম্প সমর্থন করেছিলেন। তবে শর্ত ছিল, তিনি ওয়াশিংটনকে ভেনেজুয়েলার অপরিশোধিত তেলসম্পদে প্রবেশাধিকার দেবেন। এই সপ্তাহে ট্রাম্প তার নেতৃত্বকে শক্তিশালী বলে প্রশংসা করেছেন এবং বলেছেন, ভেনেজুয়েলার তেল থেকে তারা আরও ধনী হতে যাচ্ছে।
এনএন/ ২৬ জানুয়ারি ২০২৬









