জেলগেটে স্ত্রী ও শিশু সন্তানকে শেষ বিদায় জানালেন ছাত্রলীগ নেতা সাদ্দাম

যশোর, ২৫ জানুয়ারি – যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি থাকা বাগেরহাট সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জুয়েল হাসান সাদ্দাম শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় জেলগেটেই স্ত্রী ও সন্তানকে চিরদিনের মতো বিদায় জানান। এ সময় তার স্ত্রী কানিজ সুবর্ণা স্বর্ণালীকে তিনি ছুঁয়ে দেখেন এবং জীবনে প্রথম ও শেষবারের মতো ৯ মাস বয়সি সন্তান নাজিম হোসেনকে কোলে নেন।
সাদ্দাম কারাবন্দি থাকা অবস্থাতেই তার সন্তানের জন্ম হয়েছিল। সন্তানের জন্মের পর থেকেই তিনি কারাগারেই ছিলেন।
স্বর্ণালীর ভাই শুভ জানান, গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর গোপালগঞ্জ থেকে জুয়েল হাসান সাদ্দামকে গ্রেপ্তার করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে স্বামী কারাগারে থাকায় স্বর্ণালী মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। সেই হতাশা থেকেই গত শুক্রবার তিনি প্রথমে তার শিশু সন্তানকে হত্যা করেন এবং পরে নিজে আত্মহত্যা করেন। শনিবার সন্ধ্যায় মা ও শিশুর মরদেহ যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে নেওয়া হলে কারাবন্দি সাদ্দামকে শেষবারের মতো স্ত্রী ও সন্তানকে দেখার সুযোগ দেওয়া হয়।
কারাগার সূত্র জানায়, মরদেহ দুটি ভেতরে নেওয়ার পর সাদ্দাম স্ত্রীকে ছুঁয়ে দেখেন এবং জীবনে প্রথমবার নিজের সন্তানকে কোলে নেন, যদিও তখন শিশুটি মৃত ছিল। পুরো সময়জুড়ে কারাগারের পরিবেশ ছিল অত্যন্ত হৃদয়বিদারক।
এর আগে শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) দুপুরে বাগেরহাট সদর উপজেলার সাবেকডাঙ্গা গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। বর্তমানে সাদ্দাম বিভিন্ন মামলায় যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে আটক রয়েছেন।
স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, স্বর্ণালী তার স্বামীকে গভীরভাবে ভালোবাসতেন। দীর্ঘদিন স্বামী কারাগারে থাকায় তিনি মানসিক চাপে ভুগছিলেন। স্বামীর মুক্তির জন্য একাধিকবার চেষ্টা করেও কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় তার হতাশা চরমে পৌঁছায়।
স্বজনেরা আরও জানান, চরম হতাশার এক পর্যায়ে স্বর্ণালী প্রথমে বালতিতে থাকা পানিতে তার ৯ মাস বয়সি সন্তানকে চুবিয়ে হত্যা করেন। এরপর নিজেও গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, সাদ্দামের বাড়িতে তার মা, বোন, স্ত্রী ও সন্তান একসঙ্গে থাকতেন। কারাবন্দি অবস্থায় সাদ্দাম মাঝে মধ্যে স্ত্রীকে চিরকুট পাঠাতেন এবং দ্রুত মুক্তি পাওয়ার আশ্বাস দিতেন। এসব বিষয় স্বর্ণালীর মানসিক চাপ আরও বাড়িয়ে দেয়।
যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার আবিদ আহম্মেদ জানান, গত ১৫ ডিসেম্বর সাদ্দামকে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে আনা হয়। কারাবিধি মেনেই সন্ধ্যার পর মরদেহ দুটি কারাগারে আনা হয়েছিল। মানবিক দিক বিবেচনায় তাকে শেষবারের মতো স্ত্রী ও সন্তানকে দেখার সুযোগ দেওয়া হয়।
এর আগে ২০২৪ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর বাগেরহাটে সাদ্দামের বিরুদ্ধে একটি মামলা হয়। পরে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। সেই সময় থেকেই তিনি কারাগারে বন্দি আছেন।
এনএন/ ২৫ জানুয়ারি ২০২৬









