অন্ধ্র প্রদেশে বাংলাদেশি সন্দেহে পশ্চিমবঙ্গের শ্রমিককে পিটিয়ে হত্যা!

কলকাতা, ২৪ জানুয়ারি – ভারতে বাংলাদেশি সন্দেহে এক মুসলিম পরিযায়ী শ্রমিককে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। গত বুধবার রাতের দিকে অন্ধ্র প্রদেশে পশ্চিমবঙ্গের এক শ্রমিককে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।
নিহত শ্রমিকের নাম মঞ্জুর আলম লস্কর (৩২)। তিনি দক্ষিণ ২৪ পরগনার উস্থি এলাকার বাসিন্দা। অভিযোগ, অন্ধ্র প্রদেশের কোমারোলু এলাকায় তাকে ‘বাংলাদেশি’ তকমা দিয়ে চুরির মিথ্যা অভিযোগের আড়ালে পিটিয়ে হত্যা করা হয় উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের হাতে।
পরিবারের সদস্যরা বলেন, মঞ্জুর প্রায় এক দশক ধরে কোমারোলু এলাকায় জরি কারিগর হিসেবে কাজ করছিলেন। দীর্ঘদিন সেখানে বসবাস ও কাজ করার পরও তাকে বারবার বাংলাদেশি তকমা দিয়ে হুমকি দেওয়া হতো এবং এলাকা ছাড়তে চাপ দেওয়া হতো।
পরিবারের অভিযোগ, মঞ্জুরকে অপহরণ করে মুক্তিপণ হিসেবে ২৫ হাজার রুপি দাবি করা হয়েছিল। গত মঙ্গলবার অজ্ঞাত একটি ফোন নাম্বার থেকে মঞ্জুরের স্ত্রীকে ফোন করে ওই অর্থ দাবি করা হয়। স্বামীর জীবনের আশঙ্কায় পরিবার ছয় হাজার রুপি জোগাড় করে অনলাইনে পাঠায়। কিন্তু বুধবার রাতে পরিবারকে জানানো হয়, মঞ্জুরকে হত্যা করা হয়েছে।
মঞ্জুরের বড় ভাই গিয়াসউদ্দিন লস্কর, রাঙ্গিলাবাদ গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান ও তৃণমূল কংগ্রেস নেতা, অভিযোগ করেন, হত্যাকাণ্ডটি পূর্বপরিকল্পিত। তিনি বলেন, তার ভাইকে বাংলাদেশি তকমা দিয়ে প্রথমে অপহরণ এবং পরে হত্যা করা হয়েছে।
নিহতের পরিবার পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে দ্রুত অন্ধ্র প্রদেশ সরকারের কাছে বিষয়টি উত্থাপন করার আহ্বান জানিয়েছে এবং ঘটনার নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি করেছে। অন্ধ্র প্রদেশে বর্তমানে টিডিপি–জেএসপি–বিজেপি জোট সরকার ক্ষমতায় আছে।
এদিকে, গত বৃহস্পতিবার চেন্নাইয়ের রেললাইনের পাশে আরও এক পশ্চিমবঙ্গের মুসলিম পরিযায়ী শ্রমিকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতের নাম আলমগীর মণ্ডল (২৯)। তিনি আটদিন ধরে নিখোঁজ ছিলেন।
আলমগীরের ভাই আবু সামা জানান, হায়দরাবাদে কাজের জন্য ট্রেনে উঠেছিলেন আলমগীর এবং যাত্রাপথে স্ত্রীর সঙ্গে ফোনেও কথা হয়েছিল। এরপর আটদিন তার কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।
প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, চলন্ত ট্রেন থেকে পড়ে তার মৃত্যু হতে পারে। তবে পরিবার এই মৃত্যুকে হত্যাকাণ্ড হিসেবে সন্দেহ করছে।
এনএন/ ২৪ জানুয়ারি ২০২৬









