ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ আপাতত স্থগিত রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র

ওয়াশিংটন, ২২ জানুয়ারি – সরকারবিরোধী বিক্ষোভে আন্দোলনকারীদের ওপর ইরানের ইসলামি প্রজাতন্ত্রী সরকারের দমন–পীড়নের কারণে দেশটির বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার যে পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন প্রশাসন করেছিল, তা আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে।
এই তথ্য নিজেই নিশ্চিত করেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। গতকাল মঙ্গলবার (২১ জানুয়ারি) তিনি মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ বিষয়ে কথা বলেন। সাক্ষাৎকারে সাংবাদিক জোয়ে কেরনেন ট্রাম্পকে প্রশ্ন করেন, “ইরানের পরিস্থিতি নিয়ে অনেকেই উদ্বিগ্ন। সেখানে কি মার্কিন সামরিক পদক্ষেপের কোনো পরিকল্পনা আছে আপনার, জনাব প্রেসিডেন্ট?”
এর জবাবে ট্রাম্প বলেন, “না, আমি আশা করছি ভবিষ্যতে (ইরানের বিরুদ্ধে) কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হবে না। আপাতত বিষয়টি স্থগিত আছে। তারা রাস্তায় নির্বিচারে গুলি করে মানুষ হত্যা করেছে—এটা আমার কাছে বড় বিষয়। তবে এটাও সত্য যে তারা ৮৩৭ জনের ফাঁসির দণ্ড বাতিল করেছে। এই ৮৩৭ জনের বেশিরভাগই তরুণ।”
জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও অসহনীয় মূল্যস্ফীতির প্রতিবাদে গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে ইরানে বিক্ষোভ শুরু হয়। এরপর অল্প সময়ের মধ্যেই দেশটির ৩১টি প্রদেশের প্রায় সব শহর ও গ্রামে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে এই বিক্ষোভ, আর প্রতিদিনই এর তীব্রতা বাড়তে থাকে।
বিক্ষোভ দমনে ইরান সরকার ইতোমধ্যে ইন্টারনেট ও মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধ করে দেয়। একই সঙ্গে দেশজুড়ে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর পাশাপাশি সেনাবাহিনীও মোতায়েন করা হয়।
ইরানে বিক্ষোভ শুরুর পর থেকেই ট্রাম্প দেশটির বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের হুমকি দিয়ে আসছিলেন। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালের একাধিক পোস্টে তিনি বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে লিখেছিলেন, “সাহায্য আসছে।”
এই বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে গ্রেপ্তার হওয়া প্রায় ৯০০ আন্দোলনকারীকে দ্রুত বিচার আইনে ফাঁসির দণ্ড দেয় ইরানের বিচার বিভাগ। তখন ট্রাম্প হুমকি দেন, এই দণ্ড কার্যকর হলে ইরানের ওপর ‘নরক’ নেমে আসবে।
ট্রাম্পের সেই হুমকির পর এসব আন্দোলনকারীর ফাঁসি কার্যকর স্থগিত করে ইরান। ওই সময় দেশটির ইসলামি প্রজাতন্ত্রী সরকারকে ধন্যবাদও জানিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
এনএন/ ২২ জানুয়ারি ২০২৬









