মধ্যপ্রাচ্য

সরকারবিরোধী বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা প্রকাশ করল ইরান

তেহরান, ২২ জানুয়ারি – সাম্প্রতিক সরকারবিরোধী বিক্ষোভে কতজন নিহত হয়েছেন, তা ইরানের ক্ষমতাসীন ইসলামি প্রজাতন্ত্রী সরকার প্রকাশ করেছে।

বুধবার (২১ জানুয়ারি) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশন জানিয়েছে, বিক্ষোভে মোট ৩ হাজার ১১৭ জন মারা গেছেন। তাঁদের মধ্যে ২ হাজার ৪২৭ জনকে ‘শহীদ’ এবং ৬৯০ জনকে ‘সন্ত্রাসী-দাঙ্গাকারী’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। শহীদদের মধ্যে সাধারণ বেসামরিক আন্দোলনকারী এবং নিরাপত্তা বাহিনীর কর্মকর্তারা উভয়েই আছেন।

ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থা ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব আলী আকবর পৌরজামশিদিয়ান রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, যারা বিক্ষোভে সন্ত্রাস বা দাঙ্গাবাজি করেছে এবং সরকারি বা সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে, তাদেরকে ‘সন্ত্রাসী-দাঙ্গাবাজ’ হিসেবে ভাগ করা হয়েছে। তিনি আরও বলেছেন, শহীদদের তালিকা সন্ত্রাসী-দাঙ্গাবাজদের তালিকার চেয়ে অনেক বড়। শহীদদের তালিকায় সাধারণ বেসামরিক বিক্ষোভকারী যেমন আছেন, তেমনি নিরাপত্তা বাহিনীর বড় অংশের কর্মকর্তা ও কর্মীরাও রয়েছেন। এই দুই তালিকা প্রমাণ করে যে, সরকার বিক্ষোভ শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সহনশীলতা ও ধৈর্য দেখিয়েছে।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, বিক্ষোভ শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ইরানে ৪ হাজার ৫৬০ জন মারা গেছেন। সংস্থাটি বলেছে, তারা ইরানের ভেতরে নিজেদের কর্মীদের নেটওয়ার্কের মাধ্যমে নিহতের এই সংখ্যা সম্পর্কে নিশ্চিত হয়েছে।

এছাড়া বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, ইরানের বিক্ষোভে মৃতের সংখ্যা ১৫ হাজারের বেশি হতে পারে। গত ১৮ জানুয়ারি এক সরকারি কর্মকর্তা জানিয়েছিলেন, অন্তত ৫ হাজার জন নিহত হয়েছেন। তবে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো এখনো স্বাধীনভাবে এই সংখ্যাগুলো যাচাই করতে পারেনি।

ইরানে জীবনযাত্রার ব্যয় ও দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে বিক্ষোভ শুরু হয় ২৮ ডিসেম্বর থেকে। কয়েক দিনের মধ্যে এই বিক্ষোভ দেশটির ৩১টি প্রদেশের প্রায় সব শহর ও গ্রামে ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষোভের তীব্রতা দিন দিন বেড়েই চলে।

বিক্ষোভ দমন করতে ইরান সরকারের পক্ষ থেকে এক পর্যায়ে ইন্টারনেট ও মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধ করা হয়, এবং পুলিশ ও সেনাবাহিনীকে মোতায়েন করা হয়। কঠোর দমন নীতির মাধ্যমে এখন বিক্ষোভ-উত্তেজনা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আছে।

এনএন/ ২২ জানুয়ারি ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language