পাঁচ ব্যাংকের আমানতকারীরা পাবেন মুনাফা, সিদ্ধান্ত বদলাল বাংলাদেশ ব্যাংক

ঢাকা, ২২ জানুয়ারি – আগের অবস্থান থেকে সরে এসে পাঁচটি ব্যাংকের আমানতকারীদের জন্য ভালো খবর দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এসব ব্যাংকের ব্যক্তিগত মেয়াদি ও স্কিমভিত্তিক আমানতকারীরা ২০২৪ ও ২০২৫ সালে জমা রাখা টাকার ওপর বার্ষিক ৪ শতাংশ হারে মুনাফা পাবেন।
এর আগে নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিদ্ধান্ত দিয়েছিল, এই দুই বছরের মুনাফা আমানতকারীদের ক্ষেত্রে ‘হেয়ারকাট’ করা হবে, অর্থাৎ তারা কোনো মুনাফা পাবেন না। তবে বুধবার সেই সিদ্ধান্ত বদলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ব্যাংক রেজল্যুশন ডিপার্টমেন্ট সংশ্লিষ্ট পাঁচটি ব্যাংকের প্রশাসকদের কাছে চিঠি পাঠিয়েছে।
এই পাঁচটি ব্যাংক হলো ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, এক্সিম ব্যাংক ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক।
এই ব্যাংকগুলো একীভূত করে ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’ নামে একটি নতুন ব্যাংক গঠন করা হয়েছে। একীভূতকরণ প্রক্রিয়া শেষ হলে পুরোনো ব্যাংকগুলো ধীরে ধীরে বিলুপ্ত হয়ে যাবে এবং তাদের সম্পদ, দায় ও জনবল নতুন ব্যাংকের অধীনে চলে আসবে।
ব্যাংক রেজল্যুশন ডিপার্টমেন্টের পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, আমানতকারীদের অসুবিধার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এবং একই সঙ্গে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক সক্ষমতা নিশ্চিত করার জন্য আগের সিদ্ধান্ত নতুন করে পর্যালোচনা করা হয়েছে।
এর আগে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনায় বলা হয়েছিল, ২০২৪ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের ২৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ের আমানতের ওপর কোনো মুনাফা দেওয়া হবে না। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ওই সময়ের মধ্যে ব্যক্তিগত বা অপ্রাতিষ্ঠানিক মেয়াদি আমানত এবং স্কিমভিত্তিক আমানতের ক্ষেত্রে ব্যাংক রেট অনুযায়ী বার্ষিক ৪ শতাংশ হারে মুনাফা দিতে হবে।
নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের ২৮ ডিসেম্বর তারিখ ধরে সব সংশ্লিষ্ট আমানতের স্থিতি নতুন করে হিসাব করতে হবে। এই পুনঃহিসাবায়নের ফলে যে আর্থিক প্রভাব পড়বে, তা উল্লেখ করে একটি সমন্বয় বিবরণীসহ সংশোধিত আমানত ও মুনাফার তথ্য তিন কার্যদিবসের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংক রেজল্যুশন ডিপার্টমেন্টে জমা দিতে হবে।
এছাড়া যেসব মাসিক বা নির্দিষ্ট সময় পর পর মুনাফাভিত্তিক আমানতে ২০২৪ ও ২০২৫ সালে ব্যাংক রেটের চেয়ে বেশি মুনাফা ইতোমধ্যে দেওয়া হয়েছে, সেই অতিরিক্ত অর্থ ভবিষ্যতে প্রদেয় মুনাফার সঙ্গে কিস্তি আকারে সমন্বয় করতে হবে। এ ক্ষেত্রে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত পরিশোধসূচি অনুসরণ করতে বলা হয়েছে।
তবে ব্যক্তিগত মেয়াদি ও স্কিমভিত্তিক আমানত ছাড়া অন্য সব ধরনের আমানতের ক্ষেত্রে আগের সিদ্ধান্ত ও নির্দেশনা বহাল থাকবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, আমানত স্থিতি ও মুনাফা পুনঃহিসাবায়ন সংক্রান্ত এই নির্দেশনাগুলো রেজল্যুশন স্কিম–২০২৫ এবং সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসির আর্থিক কাঠামো গঠনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে ধরা হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক ঘোষিত স্কিম অনুযায়ী, পাঁচটি ইসলামী ব্যাংক একীভূত করে গঠিত নতুন ব্যাংকটির অনুমোদিত মূলধন নির্ধারণ করা হয়েছে ৪০ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে পরিশোধিত মূলধন হবে ৩৫ হাজার কোটি টাকা। সরকার ইতোমধ্যে পরিশোধিত মূলধন হিসেবে ২০ হাজার কোটি টাকা দিয়েছে, যা রেজল্যুশন স্কিমে ‘ক’ শ্রেণির শেয়ার হিসেবে ধরা হবে।
এছাড়া পাঁচটি ব্যাংকের আমানতকারী ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর স্থায়ী আমানতের একটি অংশ থেকে সাড়ে সাত হাজার কোটি টাকা শেয়ারে রূপান্তর করা হবে, যা ‘খ’ শ্রেণির শেয়ার হিসেবে গণ্য হবে। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বাইরে থাকা অন্যান্য প্রাতিষ্ঠানিক আমানতকারীদের স্থায়ী আমানতের অংশ থেকেও আরও সাড়ে সাত হাজার কোটি টাকা শেয়ারে রূপান্তর করা হবে, যা ‘গ’ শ্রেণির শেয়ার হিসেবে বিবেচিত হবে।
স্কিমে আরও বলা হয়েছে, নতুন সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় হবে ঢাকার মতিঝিলের সেনাকল্যাণ ভবনে। পাঁচটি ব্যাংকের দুই লাখ টাকা পর্যন্ত আমানত একীভূতকরণ কার্যকর হওয়ার তারিখ থেকে যেকোনো সময় তোলা যাবে। দুই লাখ টাকার বেশি আমানতের ক্ষেত্রে প্রতি তিন মাস পরপর এক লাখ টাকা করে উত্তোলন করা যাবে, যেখানে সর্বোচ্চ দুই বছরের উত্তোলন সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রাতিষ্ঠানিক আমানতকারীদের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে। মেয়াদি ও স্থায়ী আমানত সম্পর্কে স্কিমে বলা হয়েছে, এসব আমানতের বিপরীতে সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ পর্যন্ত বিনিয়োগ বা ঋণসুবিধা নেওয়া যাবে। বিভিন্ন মেয়াদের স্থায়ী আমানত নির্ধারিত সময় অনুযায়ী স্বয়ংক্রিয়ভাবে নবায়ন বা দীর্ঘমেয়াদে রূপান্তরিত হবে। আর চার বছরের বেশি মেয়াদি আমানত মেয়াদ শেষে পরিশোধযোগ্য হবে।
এনএন/ ২২ জানুয়ারি ২০২৬









