নির্বাচনের আসনভিত্তিক ভোটকেন্দ্রের গেজেট প্রকাশ শুরু

ঢাকা, ১৯ জানুয়ারি – ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে সব আসনের ভোটকেন্দ্রের চূড়ান্ত তালিকা গেজেট আকারে প্রকাশ করতে শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন। নাসির উদ্দিন কমিশনের পক্ষ থেকে সব আসনের চূড়ান্ত তালিকা অনুমোদনের পর ১৫ জানুয়ারি থেকে এই গেজেট প্রকাশ শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইসির উপসচিব মনির হোসেন।
তফসিল অনুযায়ী আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী ভোটের তারিখের অন্তত ২৫ দিন আগে ভোটকেন্দ্রগুলোর চূড়ান্ত তালিকা সরকারি গেজেটে প্রকাশ করার বিধান আছে।
এবার প্রথমবারের মতো প্রবাসী ও দেশের ভেতরের তিন ধরনের ভোটারের জন্য অনলাইনে নিবন্ধনের মাধ্যমে পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ পর্যন্ত ১৫ লাখ ৩৩ হাজারের বেশি নাগরিক এই ব্যবস্থায় নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন।
ভোটকেন্দ্রের গেজেটে প্রতিটি নির্বাচনি এলাকার নাম, উপজেলা, ইউনিয়ন, ভোটকেন্দ্রের নাম ও অবস্থান, ভোটার এলাকার নাম এবং নারী, পুরুষ ও হিজড়া ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে পোস্টাল ব্যালটের জন্য নিবন্ধিত ভোটারের সংখ্যাও গেজেটে তুলে ধরা হয়েছে। পোস্টাল ব্যালট পেপার গণনা কেন্দ্রের নাম ও অবস্থান এবং পোস্টাল ভোটারের সংখ্যার তথ্যও এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
প্রায় পৌনে ১৩ কোটি ভোটারের এই নির্বাচনে মোট ৪২ হাজার ৭৬১টি ভোটকেন্দ্র থাকছে, যেখানে ২ লাখ ৪৫ হাজারের বেশি ভোটকক্ষ থাকবে। ৩০০ আসনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েনের ক্ষেত্রে ভোটকেন্দ্রের গুরুত্ব বিবেচনা করে প্রতিটি কেন্দ্রে ১৬ থেকে ১৮ জন নিরাপত্তা সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন।
ইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একসঙ্গে হওয়ায় প্রতি ভোটকক্ষে সিল দেওয়ার জন্য গোপনকক্ষ বা মার্কিং প্লেসের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানিয়েছেন, নিরাপত্তার দিক থেকে মোট ভোটকেন্দ্রের ৫৯ শতাংশ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তিনি বলেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ৪২ হাজার ৭৬১টি। এর মধ্যে অধিক গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্র ৮ হাজার ৭৮০টি, গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্র ১৬ হাজার ৫৪৮টি এবং সাধারণ ভোটকেন্দ্র ১৭ হাজার ৪৩৩টি।
গুরুত্বপূর্ণ বলতে কি ঝুঁকিপূর্ণ বোঝানো হচ্ছে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, গুরুত্বপূর্ণ মানেই নিরাপত্তার দিক থেকে ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্র।
ভোটে সব মিলিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রায় ৯ লাখ সদস্য মোতায়েন করা হবে বলেও জানান স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা। এর মধ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১ লাখ সদস্য, নৌবাহিনীর ৫ হাজার, বিমান বাহিনীর ৩ হাজার ৭৩০ জন, পুলিশের ১ লাখ ৪৯ হাজার ৪৪৩ জন, আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ৫ লাখ ৭৬ হাজার ৩১৪ জন, বিজিবির ৩৭ হাজার ৪৫৩ জন, কোস্ট গার্ডের ৩ হাজার ৫৮৫ জন, র্যাবের ৭ হাজার ৭০০ জন এবং সহায়ক হিসেবে ফায়ার সার্ভিসের ১৩ হাজার ৩৯০ জন দায়িত্ব পালন করবেন।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। এ লক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মোট ৭ দিন ভোটকেন্দ্রভিত্তিক দায়িত্ব পালন করবেন।
এনএন/ ১৯ জানুয়ারি ২০২৬









