জাতীয়

‘১২ ফেব্রুয়ারিতেই ভোট, এবারের নির্বাচন গোঁজামিলের হবে না’

ঢাকা, ১৯ জানুয়ারি – প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, এবারের ভোট ও গণভোট সফল করতেই হবে। কে কী বলছে সেটা বিষয় না, ১২ ফেব্রুয়ারিতেই নির্বাচন হবে। তিনি বলেন, এবারের নির্বাচন কোনো গোঁজামিলের নির্বাচন হবে না। নির্বাচন যেন সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর পরিবেশে হয়, সেই দায়িত্ব সরকার, নির্বাচন কমিশন ও রাজনৈতিক দল—সবার। এ জন্য তিনি সব রাজনৈতিক দলের সহযোগিতা চান।

রোববার (১৮ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকে এসব কথা বলেন প্রধান উপদেষ্টা। প্রতিনিধি দলে আরও ছিলেন সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের, মিয়া গোলাম পরওয়ার ও রফিকুল ইসলাম খান।

এ সময় উপদেষ্টাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ, গৃহায়ন ও গণপূর্ত, শিল্প, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় ও সড়ক, সেতু ও রেলপথ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান।

বৈঠকে নির্বাচনের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। জামায়াতে ইসলামীর নেতারা জানান, আগামী ২২ জানুয়ারি থেকে তারা পুরো উদ্যমে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করবেন। তারা আরও জানান, জামায়াতে ইসলামী গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে প্রচারণা ইতোমধ্যে শুরু করেছে এবং ২২ জানুয়ারি থেকে নির্বাচন ও গণভোট—দুটি ক্যাম্পেইন একসঙ্গে চলবে।

বৈঠকে জামায়াতে ইসলামীর নেতারা নির্বাচনসংক্রান্ত কয়েকটি বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, যেভাবেই হোক ভালো নির্বাচন করতে হবে। নির্বাচন নিয়ে কোনো জরুরি তথ্য, অভিযোগ বা মতামত থাকলে তা জানাতে বলেন তিনি। এসব বিষয় তাৎক্ষণিকভাবে নির্বাচন কমিশনের নজরে আনা হবে এবং সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজন হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

ভোটকেন্দ্রগুলোকে দ্রুত সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হবে জানিয়ে ড. ইউনূস বলেন, অধিকাংশ কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা বসানো হবে এবং জানুয়ারির মধ্যেই এসব ইনস্টল হয়ে যাবে। যেসব কেন্দ্রে ঝুঁকির আশঙ্কা আছে, সেখানে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের জন্য বডি ক্যামেরা থাকবে। কন্ট্রোল রুম থেকে সবকিছু মনিটর করা হবে এবং ফুটেজ রেকর্ড থাকবে, যাতে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া যায়।

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে সরকারের প্রচার-প্রচারণা আইনসম্মত কি না—এ নিয়ে যেসব প্রশ্ন উঠেছে, সে বিষয়ে ড. ইউনূস বলেন, সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে কথা বলে তারা নিশ্চিত হয়েছেন যে এতে কোনো আইনগত বাধা নেই। তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্বই হচ্ছে সংস্কারের পক্ষে থাকা।

প্রধান উপদেষ্টা আরও জানান, নির্বাচনের সময় স্থানীয় পর্যায়ে যে কোনো বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য সব রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের নিয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি নির্বাচন উপলক্ষে একটি হটলাইন নম্বর চালু থাকবে, যেখানে সব ধরনের অভিযোগ গ্রহণ করা হবে।

শেষে তিনি বলেন, নির্বাচনে জিতুক বা হারুক—সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচন সফল করতে হবে এবং দেশের জন্য কাজ করতে হবে।

এনএন/ ১৯ জানুয়ারি ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language